তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলার বানসওয়াড়া শহরে এক সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়সড় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল (communal clash)। শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় একটি দোকানের ভেতরের বচসা মুহূর্তের মধ্যে রূপ নেয় সংঘর্ষে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে পাথর ছোড়ার ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর জখম হন। পরদিন পুলিশ জানায়, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অন্তত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের নাম মুজাম্মিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বানসওয়াড়ার একটি রিলায়েন্স মার্ট স্টোরে বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ ঘটনাটি শুরু হয়। অভিযোগ, এক মহিলা কর্মী দেবী দুর্গাকে নিয়ে একটি ভক্তিগীতি বাজাচ্ছিলেন। সেই সময় মুজাম্মিল নামে এক ব্যক্তি তার কাছে গিয়ে কেন অন্য গান বাজানো হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং গান বন্ধ করার জন্য চাপ দেন। কথোপকথনের সময় তিনি ওই কর্মীর একটি ভিডিওও রেকর্ড করেন বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে ওই মহিলা কর্মী তেলেঙ্গানা পুলিশের অধীন বানসওয়াড়া টাউন পুলিশ স্টেশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। তবে এর মধ্যেই ঘটনাটি দোকানের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন, উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কিছু উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে। অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকায় পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে।
এই সংঘর্ষে কয়েকজন সাধারণ নাগরিক এবং পুলিশকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে এক কনস্টেবলের অবস্থা প্রথমে আশঙ্কাজনক হলেও বর্তমানে তিনি বিপন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার রাজেশ চন্দ্র। তিনি বলেন, “ঘটনার পর ১০-১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর শনিবার বানসওয়াড়ায় বনধ ডাকা হয়, যার জেরে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার নিজেও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। ‘ব্লু কোল্টস’ দল ও মোবাইল পেট্রোলিং ইউনিটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক পোস্ট, ভিডিও বা অডিও ছড়ানোর বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক বা টুইটারে কোনও আপত্তিকর বা বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট শেয়ার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিনদেরও দায়বদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বর্তমানে বানসওয়াড়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, ছোট একটি ভুল বোঝাবুঝিও কীভাবে বড় ধরনের অশান্তির রূপ নিতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি। প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ উভয়ের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।




















