প্রত্যেককে দিপু দাসের মত অবস্থা করা হবে! নেত্রকনায় ইমামের মন্তব্যে আতঙ্কে হিন্দুরা

নেত্রকনা: নেত্রকনায় এক মসজিদের ইমামের একটি উস্কানিমূলক বক্তব্য (Netrokona)ঘিরে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জনসমাবেশে ওই ইমাম বলেন, “আমরা মুসলমানরা চাইলে যা…

netrokona-imam-controversial-remarks

নেত্রকনা: নেত্রকনায় এক মসজিদের ইমামের একটি উস্কানিমূলক বক্তব্য (Netrokona)ঘিরে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জনসমাবেশে ওই ইমাম বলেন, “আমরা মুসলমানরা চাইলে যা খুশি করতে পারি। নাস্তিক, ব্লগার ও হিন্দুদের এমন শাস্তি দিতে পারি যা পুরো বিশ্ব দেখবে। দিপু চন্দ্র দাসের সঙ্গে যা হয়েছে, তাদের সঙ্গেও তাই করব।”

Advertisements

দিপু চন্দ্র দাস ছিলেন ময়মনসিংহের এক হিন্দু যুবক, যিনি গত ডিসেম্বরে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত হন। তাঁর মরদেহ প্রকাশ্য রাজপথে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। সেই ঘটনার প্রত্যক্ষ উল্লেখ করে ইমামের এই বক্তব্য স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলোতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। অনেক হিন্দু পরিবার ইতিমধ্যে স্থানীয় থানায় নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছে।

আরও দেখুনঃ ভারতে পালানোর সময় গ্রেফতার সন্ত্রাসবাদী ইমনের কাছে ভারতের আধার! নাম আজহার খান

কেউ কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের উস্কানি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। সংগঠনের এক নেতা জানান, “দিপু দাস হত্যাকাণ্ড এখনও বিচারাধীন। তার উল্লেখ করে নতুন করে হুমকি দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

আমরা সরকারের কাছে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”নেত্রকনা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার বলেন, “বক্তব্যটি রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। কেউ আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” স্থানীয় প্রশাসন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

আরও দেখুনঃ হিন্দু মূর্তিকে হারাম বলে ধ্বংস! আবার প্রাচীন মূর্তি মিউজিয়ামে রেখে টাকা কামিয়ে দ্বিচারিতার চূড়ান্ত বাংলাদেশে

এ ঘটনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন হামলার অভিযোগ উঠেছে। দিপু দাসের মতো ঘটনা এখনও অনেকের মনে দাগ কেটে রেখেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ধর্মীয় উস্কানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।