চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবাদী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে (David Iman)গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল ডেভিড। ঠিক সেই সময়ই যশোরের নড়াইল-যশোর মহাসড়কের ঝুমঝুম এলাকা থেকে বুধবার ভোরে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ‘আজহার খান’ নামে একটি ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনা চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ইমন বড় সাজ্জাদ ওরফে সাজ্জাদ আলী খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বড় সাজ্জাদ বর্তমানে দেশের বাইরে পলাতক। পুলিশের ধারণা, গ্রেফতারি এড়াতে বড় সাজ্জাদের পরামর্শেই ইমন ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি জিহারগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং সেখানে তাকে রিসিভ করারও প্রস্তুতি ছিল।
আরও দেখুনঃ পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ বৈঠক মোদীর
পুলিশ জানিয়েছে, ইমনের কাছ থেকে উদ্ধার করা আধার কার্ডে নাম লেখা আছে আজহার খান এবং জন্মতারিখ ১২ মে ১৯৯৮।ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি অন্তত ১৮টি মামলায় অভিযুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ প্রোফাইল ডাবল মার্ডার, চাঁদাবাজি, অস্ত্র মামলা এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড। পুলিশ বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে তিনি চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে দ্রুত উত্থান ঘটান।
বড় সাজ্জাদের নেটওয়ার্কের হয়ে চাঁদাবাজি, হত্যা এবং ভয় দেখানোর কাজে তিনি সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী কোম্পানির কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায়ও তার নাম জড়িয়েছে।পুলিশ সূত্র জানায়, ইমন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে গাড়ি বদলে যশোরের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে তিন সহযোগীও ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যশোর পুলিশের একাধিক টিম চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের আটক করে।
আরও দেখুনঃ আত্মসমর্পনের সুযোগ দেওয়া হবে না হাসিনাকে! কড়া বার্তা বাংলাদেশ আইনমন্ত্রীর
গ্রেফতারের সময় ইমন তাঁর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গোঁফ কামিয়ে ফেলেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে, যাতে চেহারা বদলে ফেলা যায়। তাঁর কাছ থেকে বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই গ্রেফতারে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, ইমনের মতো সন্ত্রাসবাদীদের কারণে ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির ভয়ে আতঙ্কে ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ইমনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাঁর কাছ থেকে অপরাধ নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের উৎস, চাঁদার টাকার লেনদেন এবং অন্যান্য সহযোগীদের তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।এই ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। ইমনের মতো অপরাধীরা কীভাবে ভুয়া পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ অবস্থা হাতের বাইরে চলে গেলে ব্যবহার করা যাবে পেলেট গান! নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের





