নয়াদিল্লি: বাংলাদেশ আবারও জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারতের দিকে হাত বাড়াল। (Bangladesh)রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কিনে সেটা ভারতে পাঠিয়ে পরিশোধন করিয়ে আবার পেট্রোল ও ডিজেল আমদানি করার একটি বড় পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা। এই উদ্যোগকে অনেকে বলছেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার এক স্মার্ট পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সম্প্রতি একটি ফাইল পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে। সেখানে প্রস্তাব করা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে সরকার-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালু করা হোক। পরিকল্পনা অনুসারে, বাংলাদেশ নিজে রাশিয়া থেকে ক্রুড কিনবে এবং তার পুরো খরচ বহন করবে। ভারত সেই ক্রুড আমদানি করে নিজের রিফাইনারিতে পরিশোধন করবে। তারপর পরিশোধিত পেট্রোল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে।
আরও দেখুনঃ পাঞ্জাব ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট ঘরে তোলার চ্যালেঞ্জ লোবেরার
পরিশোধন খরচ ও পরিবহন খরচও বাংলাদেশই দেবে।কেন এই ব্যবস্থা? বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিফাইনারি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড ভারী রাশিয়ান ক্রুড প্রক্রিয়াকরণের জন্য খুব একটা উপযুক্ত নয়। এই রিফাইনারির প্রযুক্তি মূলত হালকা ক্রুডের জন্য তৈরি। ফলে দেশটি বেশিরভাগ সময়েই পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, স্ট্রেইট অব হরমুজের সমস্যা এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ান ক্রুডের সস্তা ও স্থিতিশীল সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে ভারতের উন্নত রিফাইনারি সক্ষমতা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।ভারতের রিফাইনারিগুলো রাশিয়ান অয়েল প্রক্রিয়াকরণে বিশ্বের অন্যতম দক্ষ। গত কয়েক বছরে ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রুড আমদানি করে নিজের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পরিশোধিত পণ্য রফতানিও করছে। বাংলাদেশের এই প্রস্তাব সেই সক্ষমতাকেই ব্যবহার করবে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে আগের সহযোগিতা যেমন বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন এই নতুন উদ্যোগকে সহজ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।




















