অবিলম্বে ডিজেল চাই! যুদ্ধ আবহে মোদীকে আবেদন তারেকের

ঢাকা: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের মাঝে ভারতের দিকে হাত বাড়ালো নব নির্বাচিত বিএনপি সরকার (Bangladesh)। ডিজেলের অভাব মেটাতে ভারতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ৫০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের আবেদন করেছে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-diesel-request-india-iran-war-fuel-crisis

ঢাকা: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের মাঝে ভারতের দিকে হাত বাড়ালো নব নির্বাচিত বিএনপি সরকার (Bangladesh)। ডিজেলের অভাব মেটাতে ভারতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ৫০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের আবেদন করেছে তারা। এই ডিজেল আগামী চার মাসের মধ্যে সরবরাহ করার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা যায়। এই অনুরোধের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সংকট, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।

স্ট্রেইট অফ হরমুজ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া, আর বাংলাদেশের মতো আমদানি নির্ভর দেশে প্যানিক বাইং শুরু হয়েছে।সরকারের এই পদক্ষেপ এসেছে ঠিক যখন দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন পড়েছে। লোকজন ভয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে মজুত করছে, ফলে সরকারকে দৈনিক ক্রয়সীমা আরোপ করতে হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ বেলুড় মঠ সফরে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে কালো পতাকা বিক্ষোভ, উঠল ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান

মোটরসাইকেলে ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার, বাস-ট্রাকে ৭০-২০০ লিটারের মতো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি আমদানির ৯৫ শতাংশই বাইরে থেকে আসে। ইরান যুদ্ধের কারণে গাল্ফ অঞ্চলের সাপ্লাই ব্যাহত হওয়ায় বিপিসি মার্চ মাসের চাহিদা মেটাতে ২.৮ লাখ টন ডিজেল আমদানির ব্যবস্থা করেছে, যার কিছু ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে এবং আরও ১ লাখ টন পথে।

তবু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের সঙ্গে অতিরিক্ত সরবরাহের আলোচনা চলছে।ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল)-এর মাধ্যমে এই ডিজেল সরবরাহ হবে। বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫,০০০ টন ডিজেল আসছে। ২০১৭ সালের চুক্তি অনুসারে ২০২৬ সালে মোট ১.৮ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা।

এর মধ্যে অতিরিক্ত ৫০,০০০ টন চাওয়া হয়েছে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে। ইতিমধ্যে ১০ মার্চ থেকে ৫,০০০ টন ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে, যা পরবতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন। ভারতীয় পক্ষ এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে, তবে নিজেদের স্টক এবং উৎপাদন ক্ষমতা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এই অনুরোধ শুধু জরুরি সরবরাহ নয়, বরং বৃহত্তর এনার্জি সংকট মোকাবিলার অংশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পরিস্থিতি জানানো হয়েছে, তিনি বিশ্বব্যাপী সাপ্লায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। চীনও জ্বালানি সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে। ইরান সরকার বাংলাদেশি তেল ট্যাঙ্কারদের নিরাপদ পথ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, যাতে স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকে।

তবু ঝুঁকি এড়াতে ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।ভারতের এই সহায়তা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করছে। অতীতে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ সস্তা এবং দ্রুত, যা বাংলাদেশের জন্য বড় সুবিধা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা ভারতের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন। বাংলাদেশের নতুন সরকারও ভারতকে ‘ঐতিহাসিক বন্ধু’ হিসেবে দেখছে সংকটের সময়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google