‘পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে দেব’, নবান্নে শুভেন্দু আসতেই ইসলামি নেতার চরম হুঁশিয়ারি!

কলকাতা: সোমবার নবান্নে নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিনের টালবাহানা কাটিয়ে বিএসএফ-এর কাঁটাতার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh based islamist groups target india

কলকাতা: সোমবার নবান্নে নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিনের টালবাহানা কাটিয়ে বিএসএফ-এর কাঁটাতার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। ঢাকায় ‘আজাদি আন্দোলন’-এর ব্যানারে এক বিক্ষোভ সমাবেশে ভারতকে ‘খণ্ড খণ্ড’ করা এবং হিন্দুদের ওপর হামলার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। (bangladesh based islamist groups target india)

শুভেন্দুর ‘বুলডোজার’ সিদ্ধান্ত

বিগত কয়েক বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ তুলেছিলেন যে, জমি হস্তান্তরের অভাবে সীমান্ত অরক্ষিত থাকছে। সোমবার ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দেন, “সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি হস্তান্তর করা হবে।” এর ফলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধে বিএসএফ-এর দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটতে চলেছে।

   

ঢাকায় চরম উস্কানিমূলক স্লোগান

পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে মুসলিমদের ওপর কথিত নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে একাধিক ইসলামপন্থী সংগঠন। ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’ ও ‘ইসলামী ঐক্য জোট’-এর মতো দলগুলোর নেতারা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন।

পশ্চিমবঙ্গ ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি

সমাবেশ থেকে এক ইসলামপন্থী নেতা সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, “ভারতে মুসলিমরা নিরাপদ না থাকলে এখানকার এবং ভারতের কোনো হিন্দু নিরাপদ থাকবে না।” অপর এক বক্তা দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গ একদিন ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশের অংশ হবে।” এমনকি দিল্লির বুকে ‘কালিমার পতাকা’ ওড়ানোর এবং ভারতকে ‘খণ্ড খণ্ড’ করার হুঙ্কারও দেওয়া হয় ওই মঞ্চ থেকে। বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ তুলে কলকাতার অভিমুখে ‘লং মার্চ’-এর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারী নেতারা।

কূটনৈতিক উদ্বেগ

ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করার দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। মাওলানা আবুল কাসেম, জুনায়েদ গুলজার সহ একাধিক কট্টরপন্থী নেতার উপস্থিতিতে এই সমাবেশ ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। নবান্নে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরেই ওপার বাংলার এই ‘লাফালাফি’ ও উগ্রতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google