
কলকাতা: ফের বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন সোশ্যাল মিডিয়া পরিচিত মুখ বাংলাপক্ষের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় (Garga Chattopadhyay)। ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গর্গ চট্টোপাধ্যায় মূলত বাঙালি অস্মিতার রাজনীতি এবং ভাষাগত অধিকারের প্রশ্নে পরিচিত মুখ। তিনি বাংলা পক্ষ নামে একটি সংগঠনের প্রধান, যার পথচলা শুরু হয় ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিদের অধিকার রক্ষা, বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রসার। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা পক্ষ অভিযোগ করে এসেছে যে রাজ্যে হিন্দি ভাষা ও হিন্দি বলয়ের সাংস্কৃতিক আধিপত্য ক্রমশ বাড়ছে, যার ফলে বাংলা ভাষা ও স্থানীয় সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ‘পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে দেব’, নবান্নে শুভেন্দু আসতেই ইসলামি নেতার চরম হুঁশিয়ারি!
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বাংলা পক্ষ একাধিক দাবি সামনে এনেছিল। সরকারি কাজে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার, রাজ্যের চাকরিতে বাঙালি যুবক-যুবতীদের অগ্রাধিকার এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয় সংগঠনটি। সেই কারণেই গর্গের জনপ্রিয়তা যেমন বেড়েছে, তেমনই বিতর্কও তৈরি হয়েছে বারবার।
তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে কলকাতা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল একটি পুরনো মামলায়। সেই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২০ সালের জুন মাসে করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ছিল, অসমের অহোম সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা চাওলুং সুকাফাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন গর্গ চট্টোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে অসমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক মামলা দায়ের হয়।
পরে গুয়াহাটি হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২২ সালের ১১ আগস্ট তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কলকাতা থেকে তাঁকে অসমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলিপুর আদালত থেকে ট্রানজিট জামিন পান তিনি। সেই ঘটনাও সেই সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এবারের গ্রেফতার ঘিরেও একইভাবে দুই মেরুর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। গর্গের সমর্থকদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ। তাঁদের অভিযোগ, ভিন্নমতকে দমন করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, ইভিএম নিয়ে ভিত্তিহীন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে। তাই অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

