নয়াদিল্লি: মোদী সরকার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে জালিয়াতির বিরুদ্ধে কড়া অভিযান শুরু করেছে (Ayushman Bharat)। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির (এনএইচএ) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৩৩.৬ কোটি টাকার সন্দেহজনক ক্লেম প্রি-পেমেন্ট স্টেজে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আরও ২৭২ কোটি টাকার ক্লেম ফ্ল্যাগ করা হয়েছে, যা এখন তদন্তাধীন। এছাড়া ৪.৬৩ লক্ষ (৪,৬৩,৬৬৯) ক্লেম রাজ্য সরকারগুলোর কাছে পুনরায় যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে সরকার প্রকল্পের অর্থ যাতে রোগীদের কাছে পৌঁছায়, র্যাকেট বা জালিয়াতির হাতে না যায় সেটা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (পিএমজেএওয়াই) বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প। লঞ্চের পর থেকে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৫০ গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০২৪-২৫-এ ২.৪ কোটি হাসপাতালাইজেশন রেকর্ড করা হয়েছে, ক্লেমের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৩৮,০০০ কোটি টাকা।
আরও দেখুন:মৌমাছির কামড় থেকে শিশুদের বাঁচিয়ে চরম পরিণতি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর
এই বিপুল স্কেলে জাল ক্লেম, অতিরিক্ত বিলিং, ভুয়ো ভর্তি বা হাসপাতালের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সরকার এখন মাল্টি-লেয়ার অ্যান্টি-ফ্রড সিস্টেম চালু করেছে।এনএইচএ-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ৬১টি ট্রিগার-বেসড টেকনিক ব্যবহার করে অনিয়ম ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি এআই, মেশিন লার্নিং, ইমেজ অ্যানালিটিক্স এবং অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রেকগনিশন (ওসিআর) ভিত্তিক।
এই টুলগুলো অস্বাভাবিক প্যাটার্ন যেমন একই রোগীর একাধিক ভর্তি, অসম্ভব চিকিৎসা খরচ, বা হাসপাতালের অস্বাভাবিক ক্লেম ভলিউম চিহ্নিত করে। এছাড়া ফ্লাইং স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে হাসপাতাল অডিট করে, বেনিফিশিয়ারির বাড়িতে গিয়ে যাচাই করে। মধ্যপ্রদেশে মাল্টি-লেয়ার মডেল, হরিয়ানায় ক্রস-ডিস্ট্রিক্ট ফ্লাইং স্কোয়াড, পাঞ্জাবে হোম ভিজিট অডিট, গুজরাটে হাসপাতাল ভিজিট মনিটরিং সিস্টেম (এইচভিএমএস), মণিপুরে জিও-ট্যাগড যাচাই এসব রাজ্যভিত্তিক উদ্যোগও চলছে।
এই কড়াকড়ির ফলে অনেক হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পূর্বের রিপোর্টে ১,১১৪ হাসপাতাল ডি-এমপ্যানেল করা হয়েছে, ১,৫০৪ হাসপাতালকে ১২২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত দু’বছরে টেকনোলজি-ভিত্তিক চেকে ৬৩০ কোটি টাকার জাল ক্লেম আটকানো হয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট এই প্রকল্প দরিদ্র রোগীদের জন্য, কোনও র্যাকেট বা মেডিকেল মাফিয়ার জন্য নয়।




















