অবৈধ অনুপ্রবেশে কড়া অভিযান, ১৮ বিদেশিকে ফেরাল অসম সরকার

গুয়াহাটি: অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে আরও এক দফা বড় পদক্ষেপ নিল অসম (Assam) সরকার। রাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ করার অভিযোগে আটক ১৮ জন বিদেশি নাগরিককে সমস্ত ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Indo-Bangladesh border

গুয়াহাটি: অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে আরও এক দফা বড় পদক্ষেপ নিল অসম (Assam) সরকার। রাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ করার অভিযোগে আটক ১৮ জন বিদেশি নাগরিককে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং রাজ্যের জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে রাজ্যে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ১৮ জন বিদেশির পরিচয় ও তাঁরা কোন দেশের নাগরিক—তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি।

   

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “ওরা ভেবেছিল ভারত দুর্বল, উত্তর-পূর্বকে অস্থির করা যাবে। কিন্তু অসম এখন সজাগ। আমরা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য এখানে কোনও জায়গা নেই।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অসমের শ্রীভূমি, কাছাড়, ধুবুড়ি ও দক্ষিণ শালমারা–মানকাছাড় জেলা মিলিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ২৬৭.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত এলাকাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে চিহ্নিত। নদীঘেরা চর এলাকা, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি সীমান্ত নজরদারিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অসমের শ্রীভূমি জেলার সুতারকান্দিতে একটি সমন্বিত চেকপোস্ট বা আইসিপি চালু রয়েছে। এর পাশাপাশি মেঘালয়ের ডাউকি এবং ত্রিপুরার আখাউড়ায় আরও দুটি আইসিপি কার্যকর রয়েছে। এই চেকপোস্টগুলির মাধ্যমে বৈধ যাত্রী ও পণ্য চলাচল নিয়ন্ত্রিত হলেও অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।

এছাড়াও অসমের দারাং জেলায় ভারত–ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে সন্দেহজনক চলাচল, অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য রুট এবং সীমান্ত এলাকার গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

অসম পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ যৌথভাবে সীমান্ত এলাকায় টহল আরও বাড়িয়েছে। কোনওরকম বেআইনি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, বৈধ নথিপত্র ও ভারতীয় পাসপোর্ট থাকা নাগরিকদের নির্দিষ্ট প্রবেশ ও প্রস্থান পথ ব্যবহার করে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করলে কোনও মানবিক বা প্রশাসনিক ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই সরকারের নীতি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর বার্তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরছে। রাজ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অসম সরকার ভবিষ্যতেও এমন অভিযান আরও জোরদার করবে—এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে প্রশাসনিক সূত্রে।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google