গুয়াহাটি: অসমে একটি বিতর্কিত এআই নির্মিত ভিডিওকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে (Assam BJP)। এই ঘটনার জেরে বিজেপি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া কো–কনভেনর রন বিকাশ গৌরবকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অসম বিজেপির সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে যে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছিল, তার দায়িত্বে ছিলেন গৌরবই।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি অসম বিজেপির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। সেখানে এমন কিছু দৃশ্য দেখানো হয়, যাতে মনে হচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের দিকে অস্ত্র তাক করে আছেন। ভিডিওর সঙ্গে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শট’–এর মতো উস্কানিমূলক শব্দও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
আরও দেখুন: ফুটবল বিশ্বকাপে নয়া চমক! নিরাপত্তার দায়িত্বে ‘রোবট কুকুর’
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিরোধী দল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, এটি অত্যন্ত উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার মতো কনটেন্ট। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির তরফে দিসপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেন কংগ্রেসের দুই বিধায়ক শিবমণি বরা ও দিগন্ত বর্মণ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ভিডিওটিতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রতীকীভাবে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর দৃশ্য দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফরেনার ফ্রি অসম’ এবং ‘কেন পাকিস্তানে চলে যাওনি?’—এমন উক্তিও সেখানে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে বিজেপি দ্রুত ভিডিওটি তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা যায়, ভিডিওটি আপলোডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া কো–কনভেনর রন বিকাশ গৌরব। সেই কারণেই তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের দায়ের করা এফআইআর ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আরও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিরোধী নেতারা এই ঘটনায় দায়বদ্ধতা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি হায়দরাবাদে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এবং ভিডিওটিকে ‘গণহত্যামূলক ঘৃণামূলক ভাষণ’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের কনটেন্ট সমাজে বিভাজন বাড়ায় এবং আইনের দৃষ্টিতে এর কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ভিডিওটির বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না। তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কোনো পূর্ব জ্ঞান ছিল না এবং তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষেই আছেন। একই সময়ে, অন্য এক অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিনি বিরোধী কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এআই–নির্মিত কনটেন্ট এখন রাজনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে উস্কানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে পড়লে তা সমাজে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আরও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।




















