বীরভূম: গতকালই উত্তপ্ত আবহাওয়ায় প্রথম দফা নির্বাচন শেষ হয়েছে। (Anubrata Mondal)এই আবহেই বীরভূমের শক্তিশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডলের মুখ থেকে বেরিয়ে এল এক অপ্রত্যাশিত স্বীকারোক্তি। বিজেপি নেত্রী রেখা পাত্র এক্স হ্যান্ডেলে অনুব্রতর একটি ভিডিও প্রকাশ করেন । তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত বলে পরিচিত অনুব্রতকে বলতে দেখা গেল “ফেজ ১-এ আমরা হয়তো ১৫-১৬টির বেশি আসনও পাব না।” অনুব্রতর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।
🗣️ Anubrata Mondal: “We might not even get 15–16 seats in Phase 1.”
=> The Birbhum STRONGMAN & CLOSE aide of Mamata Banerjee drops a BOMBSHELL.pic.twitter.com/cwPiJOokzt
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) April 24, 2026
যদিও অনুব্রতর এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি এবং এই ভিডিও এআই ভিডিও কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের পরে তৃণমূলের এমন আভ্যন্তরীণ হতাশা প্রকাশ্যে চলে আসায় বিরোধী শিবিরে উৎসাহের হাওয়া বইছে, আর শাসক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।বীরভূম জেলা তৃণমূলের দীর্ঘদিনের মুখ অনুব্রত মণ্ডল, যিনি ‘কেষ্ট’ নামে পরিচিত, রাজ্য রাজনীতিতে এক সময়ের অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আরও দেখুনঃ১৫২-তে ১২৫! প্রথম দফার ‘রেকর্ড’ ভোটে নবান্ন দখলের ম্যাজিক ফিগার দেখছে তৃণমূল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছের লোক বলে তাঁর পরিচয়। বিগত বছরগুলোতে বীরভূমে তৃণমূলের দাপটের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। কয়েক বছর আগে গরু পাচার মামলায় জড়িয়ে তাঁকে তিহার জেলেও যেতে হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে এলেও তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দলের অন্দরে নানা আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি বীরভূম জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে একটি নয় সদস্যের কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি পুলিশের সঙ্গে একটি অডিও কথোপকথন লিক হয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।এই পরিপ্রেক্ষিতে অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্য অনেকের কাছে আশ্চর্যজনক মনে হলেও, কেউ কেউ বলছেন এটা দলের বাস্তব চিত্রেরই প্রতিফলন। প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দুর্গাপুর-আসানসোল বেল্টসহ বিভিন্ন জেলা এই দফায় অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলগুলোতে বিজেপির শক্তি বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বেকারত্ব এবং সাম্প্রতিক বছরের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, পরিবারতন্ত্র এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থার অভিযোগও বারবার উঠছে।
অনুব্রত মণ্ডলের এই স্বীকারোক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। অনেকে বলছেন, যখন দলের একজন অভিজ্ঞ এবং শক্তিশালী নেতা নিজেই এমন হতাশার কথা বলছেন, তখন দলের অবস্থা কতটা খারাপ হয়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। বিজেপি নেতারা এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বলছেন, তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন শুরু হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীসহ বিরোধী শিবিরের নেতারা দাবি করছেন, প্রথম দফাতেই বিজেপি বড় জয় পাবে। অন্যদিকে তৃণমূলের কিছু নেতা এই মন্তব্যকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উড়িয়ে দিতে চাইছেন। তাঁরা বলছেন, অনুব্রত মণ্ডল হয়তো স্থানীয় কোনো প্রেক্ষাপটে কথা বলেছেন, কিন্তু দলের সামগ্রিক লড়াইয়ে এর প্রভাব পড়বে না।




















