ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আবার উত্তাল হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। গত কয়েকদিন ধরে ছাত্র-জনতার মধ্যে (Anti-India protest)‘ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ’ এমন স্লোগান উঠছে জোরালোভাবে। প্রতিবাদী মিছিলে ইসলামি র্যাডিক্যাল গ্রুপগুলোর উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। অনেকে বলছেন, এর পেছনে মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের নীরব সমর্থন বা অসহায়তা কাজ করছে।
প্রশ্ন উঠছে ইউনুস কি নিজের কবর খুঁড়ছেন ইসলামি চরমপন্থীদের লাল গালিচা পেতে দিয়ে?সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহবাগ এলাকায় বড় ধরনের প্রতিবাদ হয়েছে। শুক্রবারের জুম্মার নামাজের পর হাজারো ছাত্র-যুবক রাস্তায় নেমে এসেছে। স্লোগানে স্লোগানে তারা ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়ছে। “আমি হাদি”, “ভারতীয় আধিপত্য বন্ধ কর” এমন নানা উগ্র স্লোগানে ক্যাম্পাস কাঁপছে।
আরও দেখুন: দুদিনে ১৭ বার ভূমিকম্পের মুখোমুখি সিকিম
এর পেছনে শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিশোধের আবেগ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। হাদি ছিলেন একজন কট্টর ইসলামি নেতা, যিনি ভারত-বিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ইনকিলাব মঞ্চের মতো গ্রুপগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।ইউনুস সরকারের সমালোচকরা বলছেন, এই উগ্রতার পেছনে সরকারের নীতিগত দুর্বলতা দায়ী। ২০২৪-এর আন্দোলনের পর যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন ইউনুসকে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দেওয়া হয় নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ হিসেবে।
কিন্তু গত দেড় বছরে পরিস্থিতি অনেকটা বদলে গেছে। জামায়াতে ইসলামীসহ নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, চরমপন্থীদের মুক্তি দেওয়া এসব পদক্ষেপ ইসলামি গ্রুপগুলোকে নতুন করে শক্তি জুগিয়েছে। ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। ভারত থেকে এসব নিয়ে সমালোচনা উঠলে ইউনুস সরকার তা ‘ভারতীয় প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রতিবাদ শুধু ছাত্রদের ক্ষোভ নয়, এর মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট।
একদিকে ইসলামি চরমপন্থীরা ভারতকে ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করছে, অন্যদিকে সরকারের নীরবতা তাদের আরও উৎসাহিত করছে। কয়েকজন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতও প্রকাশ্যে বলেছেন, ইউনুস সরকার জামাতি সমর্থন পেতে ভারত-বিরোধী ন্যারেটিভকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ছে। ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ, দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ এসব ঘটনা এখন নিত্যদিনের।প্রশ্ন হলো, ইউনুস কি সত্যিই এই পথে চলতে চান?
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি যে শান্তি ও উন্নয়নের বার্তা দিয়েছিলেন, তা কি এখন ইসলামি উগ্রতার ছায়ায় ঢাকা পড়ছে? অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, চরমপন্থীদের লাগাম না টেনে তাদের পথ ছেড়ে দেওয়া ইউনুসের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। কারণ, এই উগ্র গ্রুপগুলো একসময় সরকারকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে। ইতিমধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভে ইউনুসের বাসভবনের সামনে হামলার ঘটনা ঘটেছে।




















