পূর্ব মেদিনীপুর: কলকাতার আনন্দপুরের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে (Anandapur Fire) নিখোঁজদের ২১ জনই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। সুতাহাটা, নন্দকুমার, তমলুক, ময়না ও পাঁশকুড়া থানা এলাকার সেই সমস্ত নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের হাতে বুধবার ১০ লক্ষ টাকা করে চেক তুলে দেওয়া হলো সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত রায়ের মাধ্যমে। কিন্তু বিতর্কের সূত্রপাত চেকের উৎস ঘিরে।
চেকগুলিতে দেখা যায়, ‘ওয়াও মোমো’ সংস্থা এবং ‘পুষ্পাঞ্জলি নার্সারির -এর পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে মোট ১০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই ফের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়।
তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সুজিত রায়ের দাবি, বারুইপুর পুলিশ জেলা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ পরিবারের তরফে সেই সাহায্য করা হয়েছে। আর এখানেই তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
বামেদের অভিযোগ, যদি পুলিশ পরিবারের তরফে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় তাহলে সেখানে অভিযুক্ত দুই সংস্থার চেক কেন? ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্ডাও। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং একটি করে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু এখানে বলা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে চেক দেওয়া হচ্ছে, অথচ চেকে লেখা রয়েছে বেসরকারি সংস্থার নাম। ওরা তো ক্ষতিপূরণ দেবেই। কিন্তু সরকারিভাবে কোথায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলো?”
অশোক দিন্দার অভিযোগ, অন্যের দেওয়া অর্থে সরকারি সংস্থার নাম ব্যবহার করে দায় সারা হচ্ছে। “তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করার অধিকারই বা কে দিয়েছে?”—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়াও তিনি দাবি করেন, পরিবারগুলিকে সিভিক নয়, স্থায়ী সরকারি চাকরি দিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কমপক্ষে ৫০ লক্ষ টাকা হওয়া উচিত। দোষীদের দেওয়া ক্ষতিপূরণের চেকে নিজেদের নাম জুড়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি বিধায়ক।
এই নিয়ে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে বলেছেন সরকারি যা ঘোষণা আছে তা তো আছেই। ওইসব পরিবারগুলোর জন্য সিভিক ভলেন্টিয়ার এর যে নিয়োগ প্রক্রিয়া তা প্রসেস চলছে।
ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হওয়ায় আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হলো।




















