পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতের বিমান খাতে চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিমান চলাচলের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি যাত্রীদের ওপর পড়েছে। সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) ঘোষণা করেছে যে তারা জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন ফুয়েল সারচার্জ কার্যকর করছে। এই বৃদ্ধি শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেই নয়, অন্তর্দেশীয় ফ্লাইটেও প্রযোজ্য হবে।
যাত্রীরা যে পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করবেন, তা তাদের ভ্রমণের দূরত্বের উপর নির্ভর করবে। এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের জন্য ফুয়েল সারচার্জ কার্যকর হবে ৮ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে। অর্থাৎ, এই তারিখ থেকে যেকোনও নতুন টিকেটে নতুন সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।
ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ফুয়েল সারচার্জ বৃদ্ধি সম্পর্কিত বিস্তারিত নিম্নরূপ:
৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের জন্য যাত্রীকে অতিরিক্ত ২৯৯ টাকা দিতে হবে।
৫০১-১০০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য অতিরিক্ত ৩৯৯ টাকা প্রযোজ্য হবে।
১০০১-১৫০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য যাত্রীকে ৫৪৯ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে।
১৫০১-২০০০ কিলোমিটার দূরত্বে ৭৪৯ টাকা ফুয়েল সারচার্জ লাগবে।
২০০০ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরত্বের জন্য অতিরিক্ত ৮৯৯ টাকা দিতে হবে।
এই ফুয়েল সারচার্জ বৃদ্ধি শুধুমাত্র দূরত্বের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত, যার মানে হলো সংক্ষিপ্ত রুটের জন্য তুলনামূলকভাবে কম, আর দীর্ঘ রুটের জন্য বেশি অর্থ প্রদান করতে হবে। এ ধরনের ব্যবস্থা বিমান সংস্থাগুলোর জন্য খরচ সমন্বয় করার একটি প্রচেষ্টা। ফুয়েল সারচার্জ বৃদ্ধির মূল কারণ হলো পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ এবং তেলের সরবরাহে বিঘ্ন। ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান খাতেও পড়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ার ফলে এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বিমান সংস্থাগুলোকে প্রতিটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা সরাসরি যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।




















