দাসপুর: নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থনের আহ্বান জানান। দাসপুরে সভায় বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়, যা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। কালাচাঁদ সেতু নির্মাণ এবং দুধকুমড়া–কোলাঘাট জাসর সেতুর পুনর্নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সহযোগিতা না করলে রাজ্য সরকার নিজস্ব অর্থে ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ সম্পন্ন করবে বলেও তিনি জানান।
জলনিকাশির সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে। পলাশপাই চন্ডেশ্বর খালসহ একাধিক খালের ড্রেজিংয়ের জন্য ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি জমা জল সরানোর জন্য পাম্প ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দাসপুরের ২০টি অঞ্চলের রাস্তার উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বর্ণকারদের সুবিধার্থে গোল্ড হাব তৈরি করা হয়েছে, যা দ্রুত চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একইসঙ্গে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পুলিশ স্টেশন তৈরির বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দাসপুরে ইতিমধ্যেই একটি আইটিআই কলেজ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় যুবকরা কারিগরি শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন। উন্নয়ন নিয়ে যেকোনো জায়গায়, যেকোনো সময়ে বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা মহিলাদের স্বার্থে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে তিনি কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেন এবং সাধারণ মানুষকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য লাইনে দাঁড় করানোর বিষয়টি নিন্দা করেন। নোটবন্দি, লকডাউন এবং পরিষেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তির কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা ও সড়ক যোজনার মতো প্রকল্পের অর্থ বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে।




















