বীরভূম: বীরভূমের বিতর্কিত ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বর্তমানে পলাতক এই ব্যবসায়ীর মোট ৯৩ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে রাজ্য পুলিশ। শুক্রবার নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে প্রাক্তন প্রশাসনের দিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায্য ও মদত ছাড়া এত বড় অবৈধ র্যাকেট চালানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এক এক করে টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির দীর্ঘ খতিয়ান তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এর পাশাপাশি নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রূপো এবং ৮৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩টি ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন, সিপিইউ, মানি রিসিট, চেক বুক এবং প্রচুর রোড চালান উদ্ধার হয়েছে। এমনকি ৮৩টি ট্রাক এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি যেমন বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ ও অডির হদিশ মিলেছে। এছাড়া ২১টি স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি এবং ১টি ফার্ম হাউসসহ মোট ৩০০ বিঘা জমি। এই সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সম্প্রতি যে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছিল, তার পুরোটাই টুলু মণ্ডলের বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে গ্রেফতারি হলেও মূল অভিযুক্ত টুলু এখনও অধরা। সরকারি আইনজীবীর তরফে আদালতে জানানো হয়েছে যে ওই পাথর ব্যবসায়ী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এপ্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী গত ৪ মে-র পর থেকেই দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন টুলু মণ্ডল।
এদিন প্রাক্তন সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এ সব করা যায় না। না হলে এতদিন ধরে এত বড় র্যাকেট চালানো যেত না। এক্ষেত্রে যারা ওয়াচডগের ভূমিকায় ছিলেন, তাঁদেরও সচেতনতার অভাব ছিল বা প্রতিবাদ করতে গিয়ে করতে পারেননি। ১৪ তলা চোখ খুলে রাখলে, নির্দেশ সেখান থেকেই যায়। হেড অফ দ্য ইনস্টিটিউশন যদি চায় তাহলে দুর্নীতি হয়, না চাইলে হয় না।” মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করেই এই বিপুল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল টুলু। আইনসম্মতভাবে এই মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে এবং জোর করে জমি দখল, ভয় দেখিয়ে তোলা আদায় কিংবা পাথর ও বালির খাদানের সমস্ত অনিয়মের গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাবে প্রশাসন।
সব্যসাচী কাণ্ডে সক্রিয় ইডি: পার্ক স্ট্রিট থেকে রাজারহাট, বেআইনি সম্পত্তির খোঁজে তল্লাশি
নিশানায় শুভেন্দু? বর্ধমান থেকে এসটিএফের জালে জইশ জঙ্গি




