সালটা ছিল ১৯৭৭। এক বৃষ্টিভেজা দুপুরে ইডেন গার্ডেন্সে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নেমেছিলেন ফুটবল সম্রাট পেলে (India Vs Brazil)। নিউ ইয়র্ক কসমসের জার্সিতে ফুটবল ঈশ্বরের সেই পায়ের জাদু দেখতে সেদিন উপচে পড়েছিল গোটা কলকাতা। মাঝে কেটে গিয়েছে ৪৯টি বছর। গঙ্গার জল অনেক দূর গড়ালেও, এই শহরের রক্তে মিশে থাকা ব্রাজিল প্রেমে এতটুকুও মরচে ধরেনি। সেই নাড়ির টানের প্রতিদান হিসেবেই এবার শরতের তিলোত্তমায় সরাসরি বাজতে চলেছে সাম্বার দামামা। আগামী ৩ অক্টোবর, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সবুজ গালিচায় এক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হতে চলেছে খোদ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল!
বৃহস্পতিবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) এই মহাজাগতিক খবরের আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দিতেই তীব্র উন্মাদনার স্রোত বইতে শুরু করেছে ময়দানে। ভারতীয় ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এই ম্যাচ আক্ষরিক অর্থেই এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে ভারতীয় দল কখনও এত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নামেনি। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে পাঁচ নম্বরে থাকা সেলেকাওদের বিরুদ্ধে ‘ব্লু টাইগার্স’-এর এই লড়াই যে ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের কঠিন ও রোমাঞ্চকর পরীক্ষা, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
এআইএফএফ-এর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়ণের কথায়, “ব্রাজিলের মতো এক মহীরুহকে আমাদের দেশে স্বাগত জানানো ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।” অন্যদিকে, জাতীয় দলের ডিরেক্টর তথা প্রাক্তন গোলরক্ষক সুব্রত পালের চোখে এই ম্যাচ এক রূপকথার সমান। তিনি মনে করেন, “ফুটবলারদের কাছে এটা নিছকই কোনও সাধারণ ম্যাচ নয়। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবল শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের পরখ করে নেওয়ার এক অতি বিরল সুযোগ। এই অমূল্য অভিজ্ঞতা ফুটবলারদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করবে।”
ভারতের ফুটবলের মক্কায় বরাবরই হলুদ সবুজ জার্সির রমরমা। পেলের সেই ঐতিহাসিক সফরের পর থেকে এই শহর যুগে যুগে ‘জোগো বোনিতো’-র প্রেমে পাগল। আর এবার সেই স্বপ্নের দলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ভারতের। ১৯৭৭-এর ইডেন থেকে ২০২৬-এর যুবভারতী বৃত্তটা বোধহয় এভাবেই সম্পূর্ণ হতে চলেছে। অক্টোবরের উৎসবের শহরে এখন শুধুই এক মহাজাগতিক সাম্বা ঝড়ের অপেক্ষা!





