৩৫ লক্ষের মাদক পাচার করতে গিয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চের দাওয়াই আরশাদ আলিকে

গুরুগ্রাম: গুরুগ্রামে মাদক চোরাচালানের এক বড় চক্রের সন্ধান (MDMA seizure)পেয়ে পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ দল সফল অভিযান চালিয়েছে। সেক্টর ৩৯-এর ক্রাইম ব্রাঞ্চ টিম গোপন সূত্রের ভিত্তিতে…

gurugram-mdma-seizure-arshad-ali

গুরুগ্রাম: গুরুগ্রামে মাদক চোরাচালানের এক বড় চক্রের সন্ধান (MDMA seizure)পেয়ে পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ দল সফল অভিযান চালিয়েছে। সেক্টর ৩৯-এর ক্রাইম ব্রাঞ্চ টিম গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরশাদ আলি ওরফে আজ্জু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের এমডিএমএ (xtasi) উদ্ধার করা হয়েছে।

গুরুগ্রাম পুলিশের এসিপি ক্রাইম নবীন শর্মা সাংবাদিকদের জানান, “আমাদের সেক্টর ৩৯-এর ক্রাইম ব্রাঞ্চ টিম খবর পায় যে, এক ব্যক্তি গুরুগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এমডিএমএ বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।” তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি গত দু’বছর ধরে গুরুগ্রামের ল্যান্ডমার্ক সোসাইটিতে বাস করছিলেন।

Advertisements

আরও দেখুনঃ পাবনায় ফের নৃশংস খুন হিন্দু শিক্ষিকা! বাঙালি হিন্দুরা চুপ-নিন্দায় সরব তথাগত

আরশাদ আলি, বয়স ৩৩ বছর, কেরলের কোঝিকোড়ের বাসিন্দা। তিনি গত তিন বছর ধরে নয়ডায় অবস্থিত একটি বিদেশি এভিয়েশন কোম্পানিতে চাকরি করছিলেন এবং প্রাইভেট চার্টার ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর এই পেশাগত পরিচয় এবং উচ্চবিত্ত এলাকায় বসবাসের সুযোগ নিয়ে তিনি মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

এমডিএমএ একটি সিন্থেটিক মাদকদ্রব্য যা ইয়ুথদের মধ্যে ‘পার্টি ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিত। এটি সেবন করলে অস্থায়ী উত্তেজনা ও আনন্দের অনুভূতি হয় বটে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের ক্ষতি, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং মানসিক সমস্যার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আরশাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা এমডিএমএ শহরের বিভিন্ন পার্টি স্পট, নাইটক্লাব এবং যুবকদের মধ্যে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল।

আরও দেখুনঃ বন্দে মাতরম অবমাননা এবার অপরাধ, সংসদে পাস ঐতিহাসিক বিল

এই গ্রেফতারকে গুরুগ্রাম পুলিশের সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। গুরুগ্রামের মতো একটি আধুনিক শহরে আইটি প্রফেশনাল, এভিয়েশন কর্মী এবং উচ্চবিত্ত যুবকদের মধ্যে মাদকের ছড়িয়ে পড়া নিয়ে ইতিমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আরশাদ একাই নয়, এর পিছনে একটি বড় নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। তাঁর ফোন, ব্যাংক ডিটেইলস এবং যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

ল্যান্ডমার্ক সোসাইটির এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা জানতাম না যে এখানে এমন কেউ থাকতে পারে। পুলিশের এই তৎপরতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তবে শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না, পুরো চক্রকে ধরতে হবে।” যুবসমাজের মধ্যে মাদকের ছড়িয়ে পড়া রোধে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।

আরও দেখুনঃ পরপর পাঁচ দিন চরম দুর্যোগের পূর্বাভাস, কোন জেলাগুলিতে চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি?

কেরল থেকে আসা এক যুবকের এভাবে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা অনেক প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপনের মাঝেও কেন তিনি এই পথ বেছে নিলেন তা তদন্তে উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, আরশাদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আরও তথ্য সংগ্রহ চলছে।