নয়াদিল্লি: জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতের মতো এবার দেশের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করলেও জুটবে কঠোর আইনি শাস্তি। চরম হট্টগোল ও বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদের মাঝেই বুধবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়ে গেল ‘দ্য প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। এর আগে গত মঙ্গলবারই রাজ্যসভায় পাস হয়েছিল এই সংশোধনী বিলটি। ফলে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে আইন প্রণয়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল প্রস্তাবিত এই বিল।
লোকসভায় বিরোধীদের বিক্ষোভ ও হট্টগোল
এদিন লোকসভায় যখন বিলটি আলোচনার জন্য তোলা হয়, তখন NEET প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে ওয়েলে নেমে তুমুল বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বিরোধীরা। তীব্র রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং হইচইয়ের মধ্যেই সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বিলটি পাস করায় শাসকদল। এর আগে রাজ্যসভাতেও এই বিল পেশের সময় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। বিলের বিরোধিতায় কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী দল ওয়াকআউটও করেছিল।
আইনে কী পরিবর্তন আসছে?
মূলত ১৯৭১ সালের ‘দ্য প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ (Prevention of Insults to National Honour Act, 1971)-কে সংশোধন করেই এই নতুন বিলটি আনা হয়েছে। এতদিন এই আইনে সংবিধান, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল। এবার এই একই আইনি সুরক্ষার আওতায় চলে এল জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-ও।
প্রস্তাবিত এই আইন পুরোপুরি কার্যকর হলে, ভবিষ্যতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মান করা, বাধা সৃষ্টি করা বা বিঘ্ন ঘটানো গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর জন্য দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
কেন এই উদ্যোগ?
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ রচিত হয়েছিল ১৮৭৫ সালে এবং ১৮৮২ সালে এটি তাঁর বিখ্যাত ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গানটির গৌরবময় ১৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবেই কেন্দ্রের তরফে এই বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিগত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গান যথাযথ মর্যাদায় পরিবেশনের জন্য রাজ্যগুলিকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকাও পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
গত মঙ্গলবার রাজ্যসভায় এই বিলের ওপর বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, দেশের “সম্মান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” রক্ষা করাই এই বিল আনার প্রধান লক্ষ্য। ‘বন্দে মাতরম’-কে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, জাতীয় প্রতীকের অবমাননা রুখতে কড়া আইনের প্রয়োজন ছিল।
যদিও সরকারের এই পদক্ষেপে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শাসক শিবিরের একাংশ জাতীয় প্রতীকের সুরক্ষায় এই আইনকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে দাবি করলেও, বিরোধীদের মতে, দেশের বর্তমান জ্বলন্ত সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোটাতেই তড়িঘড়ি এই বিল পাস করানো হলো।





