সিএবির ‘মাটি কেলেঙ্কারি’! বাইশ গজের পুণ্যভূমি কি এবার কালিমালিপ্ত হচ্ছে দুর্নীতির কালো ছায়ায়? ক্রিকেটের নন্দনকানন (Eden Gardens) থেকে শুরু করে ময়দানের সবুজ গালিচা সব জায়গাতেই এখন কান পাতলে শোনা যাচ্ছে একটাই ফিসফাস। অভিযোগ উঠেছে, পিচ তৈরির জন্য যে মাটি ব্যবহার করছে বঙ্গ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা, তা নাকি কেনা হচ্ছে এক ‘বেআইনি’ ডিলারের কাছ থেকে!
কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছে যে, ব্যক্তির থেকে বছরের পর বছর এই মাটি নেওয়া হচ্ছে, তিনি অনুমোদিত ১২ জন ‘অথরাইজড ডিলার’-এর তালিকাতেই নেই। আর এই অভিযোগ ঘিরেই রীতিমতো ভূমিকম্প শুরু হয়েছে রাজ্য ক্রিকেটের অন্দরমহলে।
কিন্তু বিতর্কের দাবানল ছড়ানোর আগেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। সমালোচকদের যাবতীয় অভিযোগের বাউন্সারকে সপাটে হুক করে এক কড়া বিবৃতিতে তারা জানিয়ে দিল, এই দুর্নীতির তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সিএবি-র স্পষ্ট দাবি, ২০১০ সাল থেকে গত ১৫ বছর ধরে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমেই এক প্রতিষ্ঠিত বিক্রেতার থেকে এই মাটি কেনা হয়। এখানে লুকোচুরির কোনও জায়গাই নেই।
তবে সেই ডিলার আদতে কোথা থেকে মাটি জোগাড় করছেন, সেই দায় নিতে নারাজ সিএবি। তাদের সাফ কথা, “ওই নির্দিষ্ট বিক্রেতা ময়দানের আরও বেশ কয়েকটি ক্লাবকে স্বাধীন ভাবে মাটি সরবরাহ করে থাকেন। এক জন স্বাধীন বিক্রেতা তাঁর কাঁচামাল ঠিক কোথা থেকে সংগ্রহ করছেন, তা সিএবি বা ময়দানের অন্য কোনও ক্লাবের নজরদারির আওতায় পড়ে না।”
রাজ্য সরকারের যাবতীয় নির্দেশিকা ও আইনি কাঠামো মেনেই তারা কাজ করছে বলে দাবি করেছে সিএবি। বঙ্গ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার এই কড়া ও তীক্ষ্ণ বার্তার পর ময়দানের মাটি-বিতর্কে আপাতত জল ঢালা গেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে সংশয়ের ধোঁয়া কি একেবারেই কাটল? নাকি ময়দানের আনাচে-কানাচে এখনও ধিকধিক করে জ্বলছে সন্দেহের আগুন? উত্তর দেবে সময়।





