ঐতিহ্যের সেই চিরচেনা নীল জার্সিতে কি এবার রাজনীতির গাঢ় রং? নাকি নীল টার্ফে নিজেদের অস্তিত্ব আরও প্রখর করতেই হঠাৎ এই অভূতপূর্ব বদল? বিশ্ব ফুটবলে যেমন ব্রাজিলের হলুদ বা আর্জেন্তিনার নীল-ও সাদা এক লহমায় আবেগ উসকে দেয়, তেমনই ভারতীয় হকির সমার্থক ছিল সেই ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সি। কিন্তু আসন্ন এফআইএইচ হকি বিশ্বকাপে সেই চেনা ছবিটাই আমূল বদলে যেতে চলেছে।
গত ২৭ জুলাই সোশ্যাল মিডিয়ায় হকি ইন্ডিয়ার একটি ছোট্ট ভিডিও ঘিরে রীতিমতো সুনামি উঠেছে ভারতীয় ক্রীড়ামহলে। নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মাটিতে হতে চলা বিশ্বকাপে ভারতের পুরুষ ও মহিলা দল নীল নয়, বরং গেরুয়া জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামবে। আর এই ঘোষণাতেই দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। প্রাক্তন অধিনায়ক বীরেন রাসকুইনহা থেকে শুরু করে অগণিত হকিপ্রেমীর মনে একটাই প্রশ্ন হঠাৎ কেন ঐতিহ্যের সঙ্গে এই চরম আপস?
বিতর্কের দাবানল ছড়াতেই বৃহস্পতিবার ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে হকি ইন্ডিয়া। এক বিবৃতিতে তারা কড়া ভাষায় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি খোঁজা অর্থহীন। গোটা পদক্ষেপটিই নেওয়া হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি এবং খেলোয়াড়দের সুবিধার কথা মাথায় রেখে। আসলে আধুনিক হকির নীল অ্যাস্ট্রোটার্ফে নীল জার্সি পরলে খেলোয়াড়দের দ্রুত শনাক্ত করতে সমস্যা হতে পারে। সেই ‘ক্যামোফ্লেজ’ বা মিশে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই রঙের এই বৈপ্লবিক বদল।
বিকল্প হিসেবে প্রথমে হলুদ এবং গেরুয়া এই দুটি রঙের প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু সবদিক খতিয়ে দেখে শেষমেশ গেরুয়াতেই সিলমোহর দেয় দেশের হকি নিয়ামক সংস্থা। হকি ইন্ডিয়ার অকাট্য যুক্তি, গেরুয়া নিছকই কোনও সাধারণ রং নয়। এটি ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকার গর্বিত অংশ, যা অসীম সাহস, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় গৌরবের শাশ্বত প্রতীক। নীল টার্ফে যখন গেরুয়া জার্সি গায়ে ভারতীয় খেলোয়াড়রা বিদ্যুৎবেগে ছুটবেন, তা শুধু দৃশ্যমানতাই বাড়াবে না, বরং বিপক্ষের বুকেও রীতিমতো কাঁপন ধরাবে।
কিন্তু যুক্তির এই নিরেট বর্মে কি ঢাকা পড়বে আবেগের ক্ষত? ঐতিহ্যের নীল মুছে ফেলে গেরুয়ার এই নতুন পদযাত্রা কি বিশ্বমঞ্চে ভারতের হকিও ইতিহাসে নতুন কোনও সোনালি অধ্যায় রচনা করবে? নাকি শুধু বিতর্কের দলিল হয়েই থেকে যাবে? উত্তর লুকিয়ে আছে ওই নীল টার্ফের বুকেই!





