ঢাকা: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে (Sheikh Hasina)এবার বিস্ফোরক নির্দেশ দিলেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান। দেশে ফিরলেই তাঁকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হবে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ পাওয়ার আগেই তাঁকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানান।আইনমন্ত্রী বলেন, “শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। আত্মসমর্পণের সুযোগ পাওয়ার আগেই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাঁকে আটক করা হবে।” তিনি আরও জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিভিন্ন মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ পরপর পাঁচ দিন চরম দুর্যোগের পূর্বাভাস, কোন জেলাগুলিতে চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি?
এর মধ্যে রয়েছে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ। আইনমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।গত বছরের আগস্ট মাসে ব্যাপক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
তাঁর শাসনামলে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীরা এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে শেখ হাসিনাসহ তাঁর সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক লুট, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগে অনিয়ম, পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা দুর্নীতির মামলাও চলছে।
আরও দেখুনঃ ভুল স্বীকারের পর সাফাই! মোদীর অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপের ঘোষণা মেটার
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, “যেকোনো নাগরিকের মতো শেখ হাসিনাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” তিনি আরও জানান, হাসিনার ফিরে আসার সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও, ফেরার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ আরশোলাদের নতুন আল্টিমেটাম: যন্তর মন্তরে লোহার ব্যারিকেড, মোতায়েন ব়্যাফ
আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি গ্রেফতারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ‘কঠোর অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এখনও হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আশায় আছেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলনের শহীদ পরিবারগুলো এবং আন্দোলনকারীরা হাসিনার দ্রুত বিচার দাবি করে আসছেন।





