ঢাকা: একদিকে মূর্তিপূজা হারাম বলে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ভাঙা হয়েছে বাংলাদেশে (Bangladesh)। বিশেষ করে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এই ধরণের ঘটনা আরও বেড়েছে সারা বাংলাদেশ জুড়ে। একদিকে হারাম বলে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ভেঙে ফেললেও বাংলাদেশ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক দলিলের উদাহরণ স্বরূপ হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি মিউজিয়ামে রেখে তারা আয় করছে বিদেশি মুদ্রা। যা দেশের অর্থনীতিতে কাজে লাগছে। এই দ্বিচারিতা দেখেই ফের সরব হয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু ঐক্য সংগঠন।
আরও দেখুনঃ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নতুন করে জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা
তাদের মতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু মন্দির ও মূর্তির ওপর হামলার খবর এসেছে। স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, অনেক জায়গায় মূর্তিকে ধর্মীয় কারণে ‘হারাম’ আখ্যা দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বেড়েছে। অনেকে বলছেন, এই ঘটনাগুলো শুধু ধর্মীয় উন্মাদনা নয়, সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ তৈরিরও অংশ।
কিন্তু একই সময়ে আরেকটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের মাটি খননের সময় পাওয়া প্রাচীন কালো পাথরের হিন্দু মূর্তি বা অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে সরকারি মিউজিয়ামে স্থান দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন জাদুঘরে এই মূর্তিগুলো প্রদর্শন করে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে টিকিট বিক্রি করে আয় করা হচ্ছে। এই আয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে বলে সরকারি কর্তৃপক্ষ জানায়। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যে মূর্তিকে ধর্মীয়ভাবে ‘হারাম’ মনে করা হয়, সেটিই যখন অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে তখন কি নীতি বদলে যায়?
আরও দেখুনঃ চলেছে ৭ রাউন্ড পেলেট গান, সিজেপির সংসদ অভিযানে জখম ৫: রিপোর্টে চাঞ্চল্য
বাংলাদেশ হিন্দু ঐক্য সংগঠনের নেতারা এই দ্বিচারিতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। একজন নেতা বলেন, “একদিকে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে মূর্তি ভাঙা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই মূর্তির ঐতিহাসিক মূল্য দেখিয়ে টাকা কামানো হচ্ছে। এটা স্পষ্ট দ্বিচারিতা। আমরা চাই সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো হোক। শুধু অর্থের লোভে ঐতিহ্যকে ব্যবহার করা উচিত নয়।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকে মনে করেন, এই ধরনের আচরণ তাদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাচীন মূর্তিগুলো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ।
আরও দেখুনঃ হাসিনা ভারতে! তবুও চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২০০ ব্রডগেজ রেলকোচ দিচ্ছে মোদীসরকার
এগুলোকে ধ্বংস না করে সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মিউজিয়ামে প্রদর্শন করে পর্যটন শিল্পকে উৎসাহিত করা হয়। তারা দাবি করেন, এতে কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষ নেই, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রচেষ্টা। তবে স্থানীয় প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে মন্দিরে হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।





