নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভারত বিরোধী বালেন শাহকে ভারতে ডেকে কূটনীতির বড় চাল মোদীসরকারের

নয়াদিল্লি: নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে (Balen Shah) ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে এই খবরের…

balen-shah-india-visit-invitation

নয়াদিল্লি: নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে (Balen Shah) ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।”

এই আমন্ত্রনের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। কারণ নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ ভারত বিরোধী কার্যকলাপ করে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন। ভারতীয় পণ্যে শুল্ক বসানো থেকে লিপুলেখ কালাপানি বিতর্কেও ভারত বিরোধিতার নিদর্শন দিয়েছেন তিনি। তাই এই পরেও বালেনের ভারতে আমন্ত্রণকে মোদী সরকারের অনেকেই কূটনৈতিক চাল বলে উল্লেখ করেছেন।

Advertisements

আরও দেখুনঃ পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গুলি চালানোকে সমর্থন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

এই ভারত সফর ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নেপালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বালেন শাহের প্রথম আনুষ্ঠানিক ভারত সফর হতে চলেছে।বালেন শাহ নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন নাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জাতীয় পর্যায়ে বড় প্রভাব ফেলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর দলের বিপুল সাফল্যের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। ভারত সফর তাঁর এই কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রথম বড় পদক্ষেপ।রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে আমন্ত্রণের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারত ও নেপালের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

আরও দেখুনঃ বিদেশ যাওয়ার জন্য অভিষেকের আদালতে দেওয়া সার্টিফিকেট জাল! দাবি মেডিকেল কাউন্সিলের

দুই দেশের মধ্যে খোলা সীমান্ত, বাণিজ্য, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় এই সম্পর্কের ভিত্তি।বালেন শাহের নেতৃত্বে নেপাল সরকার ইতিমধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ভারত সফরে এসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি, পর্যটন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত নেপালের অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বালেন শাহের ভারত সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কিছু অসুবিধা দূর করতে সাহায্য করবে। নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও, বালেন শাহ বাস্তববাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নেপালের স্বার্থ রক্ষা করতে চান।

আরও দেখুনঃ রাঁচিতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৫ লক্ষের মাও নেতা দিলীপ