নয়াদিল্লি:প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং রবিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের বিদেশনীতির (POK talks) ক্ষেত্রে একটি দৃঢ় অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমাদের অভিপ্রায় পরিষ্কার। এখন থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা হবে না। যদি কখনো আলোচনা হয়, তাহলে তা শুধুমাত্র পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) নিয়েই হবে, যা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে বিভিন্ন চাপ আসছে। এই আবহেই রাজনাথ সিংয়ের এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু ভারত সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ এবং সীমান্ত লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলোকে আর কোনো আপোষের মাধ্যমে দেখা হবে না।
আরও দেখুনঃ অসমের উন্নতিতে বিশাল ভূমিকা-মনে রাখবে ইতিহাস! ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগে বিস্ফোরক মামা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান যতদিন সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার করবে, ততদিন তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই প্রতিফলন।
কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলোও এই অবস্থানকে সমর্থন করেছে, যদিও কেউ কেউ বলছেন যে, কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখা উচিত। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের মধ্যে এই বক্তব্যকে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।পিওকে ইস্যুতে ভারতের অবস্থান সুপ্রাচীন। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর থেকেই কাশ্মীর ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু পাকিস্তান বারবার যুদ্ধ করে এবং অনুপ্রবেশের মাধ্যমে এই অঞ্চলের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে।
আরও দেখুনঃ দরকার নেই আমেরিকার! AMCA কে গতি দিতে মোদীর পাশে পুতিন
২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ভারত সরকার আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, সমগ্র কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজনাথ সিং বলেন, “পিওকে-তে আমাদের নাগরিকরা নির্যাতিত হচ্ছেন। সেখানকার মানুষ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। আমরা তাদের পাশে আছি।”সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও তারা সীমান্তে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী কঠোরভাবে জবাব দিয়ে আসছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এদিন সেনা সদর দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সক্ষম। কিন্তু শান্তি চাইলে পাকিস্তানকে প্রথমে সন্ত্রাসবাদের পথ ত্যাগ করতে হবে।”
আরও দেখুনঃ বিধানসভা থেকে তৃণমূল আমলের বিতর্কিত পুলিশ অফিসারদের সাসপেন্ড মুখ্যমন্ত্রীর





