গুয়াহাটি: অসমে বন্যা (Assam Floods) পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংকটজনক। প্রবল বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের একাধিক জেলা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যা-সংক্রান্ত ঘটনায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১-এ পৌঁছেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর, চরাইদেও এবং যোরহাট জেলা। নতুন করে মৃতদের মধ্যে চরাইদেও জেলায় ৭ জন, শিবসাগরে ৬ জন এবং যোরহাটে ১ জন রয়েছেন।
বর্তমানে ১ লক্ষ ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হাজার হাজার পরিবার এখনও বন্যার জলে আটকে রয়েছে।
Also Read | আরশোলাদের সঙ্গে জোট করে হোয়াটস্যাপ গ্ৰুপ! অসম থেকে গ্রেফতার আশরাফুল-আবদুল
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে রাজ্যের প্রধান নদী দিখৌ, দিসাং এবং ধানসিরি, যেগুলি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে আপার অসমে নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
রাজ্য প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ জোরকদমে চলছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে ত্রাণ কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
Also Read | জনমত নেই! ইউরেনিয়াম খননে মোদী সরকারকে না মেঘালয়ের
এদিকে, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ নেন। মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রধানমন্ত্রী বন্যার ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠনের কাজে কেন্দ্র সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ও অব্যাহত সমর্থনের জন্য অসমের মানুষ কৃতজ্ঞ।
প্রশাসনের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





