নয়াদিল্লি: জাতীয় সড়কে (National Highways) দুর্ঘটনা কমাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের জাতীয় সড়কগুলিতে ৬,৩৫৮টি ‘ব্ল্যাক করিডর’ চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই করিডরগুলিতে গত তিন বছরে ৩৭,১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে এই তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক।
‘ব্ল্যাক করিডর’ বলতে জাতীয় সড়কের এমন দীর্ঘ অংশকে বোঝায়, যেখানে ধারাবাহিকভাবে প্রাণঘাতী বা গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি। এটি ‘ব্ল্যাক স্পট’-এর থেকে আলাদা। ব্ল্যাক স্পট সাধারণত একটি নির্দিষ্ট জায়গা, আর ব্ল্যাক করিডর একটি দীর্ঘ রাস্তার অংশ।
কেন্দ্রের মতে, এই করিডরগুলি চিহ্নিত করার ফলে কোথায় আগে সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা সহজ হবে এবং দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
রাজ্যভিত্তিক হিসাবে তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে বেশি ৯৫৮টি ব্ল্যাক করিডর চিহ্নিত হয়েছে। এরপর রয়েছে উত্তরপ্রদেশে ৬৭১টি এবং কর্নাটকে ৬০৭টি। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে তামিলনাড়ুর ভিলুপুরম জেলায় সবচেয়ে বেশি, ৭০টি ব্ল্যাক করিডর রয়েছে।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের পুনে গ্রামীণ জেলায় ৬০টি, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৫২টি, তামিলনাড়ুর কাড্ডালোরে ৪৯টি এবং কেরলের পালাক্কাড়ে ৪৮টি ব্ল্যাক করিডর চিহ্নিত হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, Electronic Detailed Accident Report (e-DAR)-এ সংরক্ষিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই ব্ল্যাক করিডরগুলি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকরি জানান, দেশের চার লেন বা তার বেশি জাতীয় সড়ক এবং এক্সপ্রেসওয়েতে ধাপে ধাপে Advanced Traffic Management System (ATMS) চালু করা হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং জাতীয় স্তরে Command and Control Centre গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে এক জায়গা থেকে ট্র্যাফিক পর্যবেক্ষণ, দুর্ঘটনা মোকাবিলা, যান চলাচলের বিশ্লেষণ এবং দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়া জাতীয় সড়কের গুণগত মান নিয়ে আরেকটি লিখিত উত্তরে মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে দেশের ৬১টি জাতীয় সড়ক প্রকল্প ও সেতুতে বড় ধরনের নির্মাণ ত্রুটি ধরা পড়েছে।
এই ত্রুটিগুলির মধ্যে রয়েছে:
• রিইনফোর্সড সয়েল ওয়াল ধসে পড়া
• গার্ডারের ত্রুটি
• কংক্রিট প্যানেলের সমস্যা
• রাস্তার ওপর গভীর দাগ (Rutting)
• গর্ত (Potholes)
এই ধরনের নিম্নমানের কাজের জন্য ১০৩ জন ঠিকাদার ও নির্মাণকারী সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা





