নয়াদিল্লি: শুরু হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। (Bank Fraud)এই অধিবেশনেই মোদীসরকারের আমলে হওয়া আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। তিনি বলেন মোদী সরকারের আমলে গত পাঁচ বছরে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৪২ লক্ষ কোটি টাকা। অথচ এর মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র ৬,৩৮৯ কোটি টাকা।যা মোটের মাত্র ৪.৫ শতাংশ।
অর্থাৎ প্রতি একশো টাকার মধ্যে ৯৫ টাকাই আজও অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। এই সংখ্যাগুলো শুনলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে এত বড় অঙ্কের টাকা কোথায় গেল? আর কারা এর পেছনে আছে? তিনি প্রশ্ন তোলেন যখন একজন সাধারণ কৃষক বা ছোট ব্যবসায়ী ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করতে না পারেন, তখন ব্যাঙ্কের কর্মকর্তারা দ্রুত নোটিশ পাঠান, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দেন, এমনকি ক্রেডিট স্কোর নষ্ট করে দেন।
আরও দেখুনঃ ‘এই অপমান আমার প্রাপ্য নয়’, দলনেত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর ক্ষোভ প্রকাশ কল্যাণের
কিন্তু যখন হাজার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি হয়, তখন সেই একই ব্যবস্থা যেন ধীরে চলে। ফাইল ঘুরতে থাকে, তদন্ত চলতে থাকে বছরের পর বছর। আর টাকা উদ্ধারের গতি হয়ে যায় শামুকের মতো। এই বৈষম্য সাধারণ নাগরিকদের মনে ক্ষোভ তৈরি করছে।সংসদে উত্থাপিত তথ্য অনুসারে, এই বিপুল জালিয়াতির বেশিরভাগই বড় বড় কর্পোরেট ঋণখেলাপিদের সঙ্গে যুক্ত।
অনেক ক্ষেত্রে ঋণ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বা সম্পত্তি অন্য নামে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের দাবি, তারা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে উদ্ধারের হার এত কম কেন? কেন বড় নামগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায় না? সাধারণ মানুষের প্রশ্ন কে এই ভিআইপি জালিয়াতদের রক্ষা করছে?
আরও দেখুনঃ আরশোলাদের দৌরাত্বে সশরীরে যোগ দিলেন অরবিন্দ
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি শুধু সরকারি টাকার লোকসান নয়, এটা গোটা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। যে টাকা উদ্ধার হয় না, সেই টাকা আবার নতুন করে ঋণ বিতরণ করা যায় না। ফলে ছোট ব্যবসা, কৃষি, এমএসএমই সেক্টরে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।
একদিকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ, অন্যদিকে বড় জালিয়াতির ঘটনায় ধীর গতি এই দ্বৈত নীতি কেন?সরকারি তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে পিএনবি, স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, কানাড়া ব্যাঙ্কসহ বিভিন্ন ব্যাঙ্কে বড় বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।
নীরব মোদী, মেহুল চোকসি, ভুষণ স্টিল, এসএস গ্রুপের মতো কেসগুলো এখনও অনেকের মনে আছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা বিদেশে বসে আছেন, তাদের সম্পত্তি উদ্ধার প্রক্রিয়া জটিল আইনি লড়াইয়ে আটকে আছে। এদিকে সাধারণ ঋণগ্রহীতারা এনপিএ-র চাপে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।
আরও দেখুনঃ হাসিনা ভারতে! তবুও চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২০০ ব্রডগেজ রেলকোচ দিচ্ছে মোদীসরকার





