নয়াদিল্লি: ভারতের মহাকাশ গবেষণার আকাশে নতুন মেঘ। প্রযুক্তিগত বা যান্ত্রিক ব্যর্থতা নয়, বরং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) থেকে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের গণ-ইস্তফা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় সংকট। গত কয়েক মাসে শতাধিক বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ সংস্থা ছেড়েছেন বা স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। গগনযানের মতো জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন মিশনের কাজে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হলো মহাকাশ বিভাগকে (ডিওএস)। নির্দেশিকা জারি করে ইসরো জানিয়ে দিল, এখন থেকে গগনযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা চাইলেই চাকরি ছাড়তে পারবেন না। প্রতিটি ইস্তফার জন্য এখন প্রয়োজন হবে দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র।
বিজ্ঞানীরা কেন ছাড়ছেন ইসরো?
ইসরোর অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, এই দলত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে বহুমুখী কারণ। ২০২০ সালে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্র বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দেওয়ার পর থেকে ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’, ‘অগ্নিবুল কসমস’-এর মতো একাধিক স্টার্টআপ দ্রুত গতিতে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করছে। বেসরকারি সংস্থাগুলিতে লোভনীয় বেতন, স্টক অপশন এবং কাজের স্বাধীনতার হাতছানি বিজ্ঞানীদের ইসরো ছাড়তে প্রলুব্ধ করছে। প্রথাগত সরকারি কাঠামোর চেয়ে বেসরকারি ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি। তা ছাড়া, প্রাক্তন ইসরো আধিকারিকরাই এখন একাধিক স্টার্টআপ গড়ে তোলায় মেধাবীদের কাছে সেই সংস্থাগুলিও হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় ঠিকানা।
নেপথ্যে ধীরগতি ও প্রশাসনিক জটিলতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি ক্ষেত্রে সুযোগ ছাড়াও ইসরোর অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যাও এই দলত্যাগের কারণ। সাম্প্রতিক কালে গগনযান, এসএসএলভি-এল১, জিএসএলভি-এফ১৭-এর মতো একাধিক হাই-প্রোফাইল মিশনের সময়সীমা পিছিয়ে যাওয়ায় বিজ্ঞানীদের একাংশের মধ্যে হতাশা দানা বেঁধেছে। বহু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ায় প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে বলে অভিযোগ।
ইসরোর রণকৌশল
ইসরোর প্রায় ১৪,৬০০ কর্মীর তুলনায় এই শতাধিক বিজ্ঞানীর দলত্যাগ সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচারে সামান্য মনে হলেও, এর গুণগত প্রভাব অত্যন্ত গভীর। চন্দ্রযান-৩ বা গগনযানের মতো প্রকল্পে কাজ করা অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের চলে যাওয়া মানে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘকালীন সঞ্চিত মেধা ও অভিজ্ঞতার হাতছাড়া হওয়া। নাসা বা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির মতো ইসরোকেও এখন তাদের নিয়োগ পদ্ধতিতে বদল আনা এবং সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কথা ভাবতে হচ্ছে বলে মনে করছেন মহাকাশ নীতি-বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি এখন এক সন্ধিক্ষণে। একদা মেধা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার একমাত্র ঠিকানা হিসেবে পরিচিত ইসরো এখন এক বিশাল মহাকাশ পরিকাঠামোর ‘অ্যাঙ্কর’ বা মূল ভিত্তি। সেই নতুন পৃথিবীতে নিজেদের সেরা মেধাগুলোকে ধরে রাখাটাই এখন ইসরোর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
শিবলিঙ্গ ভেঙে মূত্রত্যাগ! যোগী রাজ্যের হামিরপুরে হাতিমকে ধোলাই দিয়ে পুলিশে জমা গ্রামবাসীর





