কলকাতা: কলকাতা পুরসভার (KMC) ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (Delimitation) প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বরো স্তরে মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা শুরু করেছে KMC-র ডিলিমিটেশন কমিটি। এই সমীক্ষার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে ওয়ার্ডের সীমানা ও সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে কাশীপুর-বেলগাছিয়া, মানিকতলা, শ্যামপুকুর এবং যাদবপুর বিধানসভা এলাকায় সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সমীক্ষায় প্রতিটি ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যা যাচাই করার পাশাপাশি, যেসব ওয়ার্ডের সীমানা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলির প্রস্তাবিত সীমারেখাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
KMC ২০০টি ওয়ার্ড গঠনের লক্ষ্য
পুরসভার এক আধিকারিক জানান, এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ১০ সদস্যের একটি সেন্ট্রাল ডিলিমিটেশন কমিটি (CDC) গঠন করা হয়েছে। কমিটির দায়িত্ব হল বর্তমান ওয়ার্ডগুলির সীমানা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে ২০০টি ওয়ার্ড গঠনের পরিকল্পনা তৈরি করা।
Also Read | ১৮ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা, রবীন্দ্র সদনে বিশেষ অনুষ্ঠান
ভোটারের সংখ্যায় ভারসাম্য আনার চেষ্টা
KMC সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা যতটা সম্ভব ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজারের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সীমায় কিছু পরিবর্তন হতে পারে।
বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যায় ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। কোথাও প্রায় ৮৫ হাজার ভোটার, আবার কোথাও মাত্র ১০ হাজার ভোটার রয়েছে। এই অসামঞ্জস্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
Also Read | কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসে নতুন মাইলফলক! ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্টেশনে টিবিএম ‘দুর্গা’র সফল ব্রেকথ্রু
উত্তর কলকাতায় কমতে পারে ওয়ার্ড
পুর কর্তৃপক্ষের মতে, গত কয়েক বছরে কলকাতার জনসংখ্যার বিন্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। উত্তর কলকাতার বহু এলাকায় জনসংখ্যা স্থির বা কমেছে, অন্যদিকে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস (EM Bypass) সংলগ্ন এলাকায় নতুন আবাসন, বাণিজ্যিক প্রকল্প ও নগরায়ণের ফলে জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই কারণে পুনর্বিন্যাসের পর উত্তর কলকাতায় ওয়ার্ডের সংখ্যা কমতে পারে, আর EM বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় নতুন ওয়ার্ড বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
৩১ জুলাই প্রকাশ পাবে খসড়া রিপোর্ট
KMC-র প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, চলমান সমীক্ষার ভিত্তিতে ৩১ জুলাই খসড়া রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি ও পরামর্শ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রশাসনের আশা, এই প্রক্রিয়া শেষ হলে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন আয়োজনের পথ আরও সুগম হবে।





