বিদেশী মুদ্রা ব্যবহার করে ধর্মান্তকরণ বন্ধ! বিপাকে পড়ে শাহের পায়ে পড়ল ক্যাথলিক বিশপরা

নয়াদিল্লি: ভারতে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণকারী আইন এফসিআরএ-র (FCRA)নতুন নিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ক্যাথলিক বিশপদের সংগঠন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে নতুন নিয়ম প্রত্যাহারের আবেদন…

fcra-rules-catholic-bishops

নয়াদিল্লি: ভারতে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণকারী আইন এফসিআরএ-র (FCRA)নতুন নিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ক্যাথলিক বিশপদের সংগঠন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে নতুন নিয়ম প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, নতুন নিয়মগুলো তাদের দাতব্য কাজ এবং দরিদ্রদের জন্য চালানো বিভিন্ন প্রকল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

সংগঠনের নেতারা বলছেন, এই নিয়মগুলো তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলোর কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে।বিশপদের প্রতিনিধিরা অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন, নতুন নিয়মগুলো রেট্রোস্পেকটিভভাবে প্রয়োগ করা হবে না বলে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তাঁরা মনে করেন, এই নিয়মগুলো এমনিতেই কঠোর এবং দাতব্য কাজের জন্য ক্ষতিকর।

আরও দেখুনঃ ভারতের অর্থিনীতিতে নয়া মোড়! ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নিয়ে তিন দেশে সফর বাণিজ্যমন্ত্রীর

তাঁরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, তফসিলি জাতির মর্যাদা খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের দেওয়া হচ্ছে না, যা বৈষম্যমূলক।অন্যদিকে মোদী সরকারের যুক্তি হল, এফসিআরএ নিয়মগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছতা রোধ করতে। সরকার বলছে, এনজিওগুলোতে বিদেশি তহবিলের অবাধ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে জাতীয় স্বার্থ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিদেশি অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করা হয়েছে বা ধর্মান্তরণের মতো বিতর্কিত কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। সরকারের মতে, নতুন নিয়মগুলো স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।ক্যাথলিক সংগঠনগুলোর দাবি, তাদের কাজ মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দরিদ্রদের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। নতুন নিয়মের কারণে অনুদান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়লে এই কাজগুলো ব্যাহত হবে।

আরও দেখুনঃ UCC প্যানেলে কোনও মুসলিম নয়! জৈনদের জায়গা দিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ফড়নবীসের

তারা বলছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং দাতব্য কাজের উপর এই নিয়মগুলোর প্রভাব পড়ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।সরকার অবশ্য জোর দিয়ে বলছে, নিয়মগুলো সব ধর্মীয় সংস্থার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এগুলো করা হয়নি। বরং বিদেশি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করাই উদ্দেশ্য।

আরও দেখুনঃ তেলের বাজারে নয়া টুইস্ট! এবার ভারত থেকে পেট্রল আমদানি করবে রাশিয়া