‘অভিষেককে সরালে অনেকেই ফিরবে’, ক্ষোভ উগরে বিস্ফোরক রবীন্দ্রনাথ

বিস্ফোরক প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (Rabindranath Ghosh)। ঋতব্রত শিবিরের কোচবিহার জেলা সভাপতি হিসাবে নাম ঘোষণা হতেই সুর চড়ালেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর দাবি, “গত কয়েকবছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের…

বিস্ফোরক প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (Rabindranath Ghosh)। ঋতব্রত শিবিরের কোচবিহার জেলা সভাপতি হিসাবে নাম ঘোষণা হতেই সুর চড়ালেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর দাবি, “গত কয়েকবছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দলের ক্ষমতা ছিল না। ক্ষমতা অন্য কোথাও কুক্ষিগত হয়েছিল। জেলায় জেলায় যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তারা লুটেপুটে খেয়েছে।“ উল্লেখ্য, যখন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল, তখন উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ভরসার মুখ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

তিনি এটাও দাবি করেছেন যে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে সবাই আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়াবেন৷ তিনি বলেছেন, “যতদিন সূর্য, চন্দ্র, পৃথিবী থাকবে, ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী থাকবেন। উনি একজন বড় ফাইটার৷ অভিষেককে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। তাহলে সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়াবে। ওর জন্যই দলের আজ এই অবস্থা।“

প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দরনাথ বলেছেন, “ঋতব্রত তৃণমূল বলে আলাদা কিছু নেই৷ পুরোটাই তৃণমূল কংগ্রেস৷ এই দলেই আগেও ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব৷ বিশেষত যে দিকে সিংহভাগ নেতা, কর্মী, বিধায়করা থাকবেন, আমাদেরও তো সেদিকেই থাকতে হবে৷ দিদির সঙ্গে সারাজীবন লড়াই করেছি৷ এখনও দিদিকে সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি৷ কিন্তু গত কয়েক বছরে কি দিদির হাতে আর ক্ষমতা ছিল? যাদের হাতে ভোটের সময় জেলায় জেলায় দায়িত্ব দিয়েছিল তারা তো ভোটের পর পালিয়ে গিয়েছে৷ অথচ সাধারণ কর্মীরা অত্যাচারিত হচ্ছে৷ তাঁদের পাশে থাকতেই আমার এই সিদ্ধান্ত৷”

ঋতব্রতদের সমর্থন জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ জানান, “সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে তো মানতেই হবে৷ উত্তরবঙ্গের সব নেতা, বিধায়করা এক জায়গায় জড়ো হয়েছেন৷ আমি তো অন্যরকম কিছু ভাবতে পারব না৷ এই প্রথম উত্তরবঙ্গ থেকে রাজ্য তৃণমূলের সভাপতি বাছা হয়েছে, যা এতদিন ভাবা যেত না৷”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি বলেন, “এখন সারা রাজ্যের যা মতামত তাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছু দিনের জন্য রাজনীতির আঙিনা থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত, সাইড করে দেওয়া উচিত৷ তাহলেই ওর খামখেয়ালিপানা, ভুল সিদ্ধান্তের জন্য দলের এই বিপর্যয়৷ প্রায় ৮০ জন বিধায়ক, মন্ত্রীদের বিধানসভা ভোটে উনি টিকিট দেননি৷ অনভিজ্ঞ লোকদের সামনের সারিতে নিয়ে এসেছেন৷ এটা কখনও হয়?”