ঢাকা: বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। (Media Ban)তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সব প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ক্ষমতাচ্যুত ও নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রকাশ বা সম্প্রচার করা যাবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) ২০২৪ সালের নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে শুক্রবার রাতে সরকারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই নির্দেশ জারি করে।
কিন্তু তার পরেও কয়েকটি গণমাধ্যম রয়টার্সের সঙ্গে হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ ও সম্প্রচার করায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইসিটির নির্দেশ অনুসারে হাসিনার কোনো বক্তব্য লাইভ বা রেকর্ডেড আকারে প্রচার করা যাবে না। এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এই নির্দেশ অমান্য করে হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করায় সরকারি মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু মহিলাকে দুদিন আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন! কাঠগড়ায় ইমন-মুরাদ
এই ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুলে ধরেছে।হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল হয়নি। তারিক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে হাসিনা ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা চলছে। আইসিটি হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ২০২৪ সালেই। সরকার এখন সেই নির্দেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে চাইছে। কিন্তু রয়টার্সের সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত?
বিরোধী মহলের অনেকে এই নির্দেশকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি সমর্থকরা বলছেন, হাসিনার বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। তাই আইন অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি।ঘটনাটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
আরও দেখুনঃ ফের ভারতে নাশকতার ছক বানচাল! সাব্বিরের পর যশোরে গ্রেফতার তাহসিন
কয়েকটি মিডিয়া আউটলেট ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার কথা জানিয়েছে। কিন্তু কেউ কেউ গোপনে বা অনলাইনে হাসিনার বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকে মনে করেন, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এটি প্রয়োজনীয়।
আরও দেখুনঃ ‘আত্মসমর্পণের জন্য তৈরি’, ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরছেন হাসিনা: জল্পনা তুঙ্গে




