টাকি : ইছামতী নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেলগুলোর (Taki)বিরুদ্ধে চলছে বুলডোজার অভিযান। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে উত্তর চব্বিশ পরগনার টাকি এলাকায় নদীর তীর দখল করে নির্মিত অবৈধ হোটেলগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এই অভিযানকে অনেকে পরিবেশ রক্ষা ও নদী পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন।
ইছামতী নদী সুন্দরবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে নদীর তীর দখল করে অবৈধ নির্মাণ চলছিল। বিশেষ করে টাকি এলাকায় পর্যটকদের আকর্ষণ করতে গিয়ে কয়েকটি হোটেল নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছিল। এতে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, জলজ প্রাণীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং বর্ষাকালে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছিল।
আরও দেখুনঃ দায়িত্ব পাওয়ার দু’দিনেই বদলি সিঁথি থানার মহিলা ওসি! নেপথ্যে কোন কারণ?
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছিলেন। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে অভিযান শুরু হয়েছে।প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে অভিযান চালানো হচ্ছে। যেসব হোটেল নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠেছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা।
প্রশাসনের দাবি, এই অভিযান কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং নদী রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য। ইছামতী নদীকে তার আসল রূপে ফিরিয়ে আনতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, পর্যটনের নামে নদীর ক্ষতি করা ঠিক হয়নি। নদী রক্ষা পেলে দীর্ঘমেয়াদে সবারই উপকার হবে। অন্যদিকে হোটেল মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আরও দেখুনঃ এক বাড়িতে একাধিক প্রাপক? অন্নপূর্ণা যোজনার জটিলতা কাটাতে জানুন নতুন নিয়ম
তাঁদের দাবি, অনেক হোটেল নিয়ম মেনেই গড়া হয়েছিল। হঠাৎ করে ভেঙে ফেলায় তাঁদের বড় ক্ষতি হয়েছে। কয়েকজন বলেন, “আমরা পর্যটকদের সেবা করতে চেয়েছিলাম। এখন সবকিছু নষ্ট হয়ে গেল।”পরিবেশকর্মীরা অবশ্য এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ইছামতী নদী শুধু জলপথ নয়, এটি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যেরও অংশ।
আরও দেখুনঃ শিলিগুড়িতে অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার: নালা দখলমুক্ত করল পৌরনিগম
নদীর তীর দখল করে নির্মাণ চললে ম্যানগ্রোভ বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হয়। তাই নদীর তীর ২০০ মিটারের মধ্যে কোনও নির্মাণ না করার নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে।প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু তাকি নয়, ইছামতী নদীর অন্যান্য অংশেও অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে নদী খনন ও তীর সংরক্ষণের কাজও চলছে। এতে নদীর প্রবাহ বাড়বে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।




