অনুব্রত থেকে প্রসূন, কারা কোথায়? জেলা সভাপতিদের তালিকা ঘোষণা ঋতব্রত-শিবিরের

কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তবে আইনি লড়াইয়ের মাঝেই সংগঠন গোছাতে মরিয়া বিরোধী…

কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তবে আইনি লড়াইয়ের মাঝেই সংগঠন গোছাতে মরিয়া বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তপসিয়ার বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক ‘পুরনো মুখ’-এর উপস্থিতিতে নিজের অনুগামী জেলা সভাপতিদের তালিকা প্রকাশ করে ঋত-শিবির বুঝিয়ে দিল, লড়াইয়ে এক চুলও জমি ছাড়তে নারাজ তারা।

এদিন দুপুরের পর তপসিয়ার বৈঠকে তৃণমূলের বহু পরিচিত মুখকে হাজির হতে দেখা যায়। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন শান্তনু সেন, অশোক রুদ্র, নারায়ণ গোস্বামী। দীর্ঘ দিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকেও এদিন দেখা গেল। বৈঠকের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে নির্মল বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের হৃদয়ে আছেন। তাঁর ওপর আস্থা আছে। তবে অভিষেকের ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না।’’

ঋতব্রতর এই বৈঠকে সবথেকে বড় চমক বীরভূমের জেলা সভাপতি পদের ঘোষণা। গরু পাচার মামলায় জেলবন্দি অনুব্রত মণ্ডল সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও, তাঁকে পুনরায় বীরভূমের দায়িত্ব দিয়েছে ঋত-শিবির। উল্লেখ্য, অনুব্রত জেলে যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার না করলেও, জেলা সভাপতির পদে কাউকেই আনেননি। এতদিন ওই জেলা মমতা নিজেই দেখতেন। এদিন ঋত-শিবির ফের সেই ভার অনুব্রতর কাঁধেই তুলে দিয়ে রাজনৈতিক কৌশল স্পষ্ট করল। অন্যদিকে, আগে থেকেই ঋতব্রতদের সঙ্গী কাজল শেখ৷

একনজরে ঋত-শিবিরের জেলা সভাপতি ও মুখপাত্ররা:

কৃষ্ণনগর: জেবের শেখ

আলিপুরদুয়ার: বিনোদ মিঞ্জ

জলপাইগুড়ি: মহুয়া গোপ

দার্জিলিং: রঞ্জন সরকার

বহরমপুর: ডেভিড

মালদা: প্রসূন

যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার: শুভাশিস দাস

দলের প্রধান মুখপাত্র করা হয়েছে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এ ছাড়া মুখপাত্রের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন আখরুজ্জামান, ডেভিড, সুদীপ রাহা ও কোহিনুর।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বনাম ঋতব্রতর এই লড়াই এখন আর চার দেওয়ালের অন্দরে সীমাবদ্ধ নেই। নির্বাচন কমিশনে দু’পক্ষই নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তি জমা দিয়েছে। সেই ফয়সলা না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই বাড়ছে জল্পনা। এদিন পুরনো নেতাদের ভিড় এবং জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা করে ঋতব্রত বুঝিয়ে দিলেন, তিনি সমান্তরাল সংগঠন চালানোর জন্য প্রস্তুত। এখন দেখার, এই ঘটনাপ্রবাহের প্রতিক্রিয়ায় মমতা শিবির কী পদক্ষেপ নেয়।