১৯৬৬ সালের পর বিশ্ব ফুটবলে এমন অবিশ্বাস্য কীর্তি আর কেউ করে দেখাতে পারেননি! কাতার বিশ্বকাপের পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ টানা দুটি টুর্নামেন্টে অন্তত ১০টি বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান (গোল এবং অ্যাসিস্ট) রাখার এক বিরল ইতিহাস গড়লেন কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)। বোস্টনে মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে উসমান দেম্বেলেকে দিয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করানোর সঙ্গেই এই অনন্য রেকর্ডের মালিক হয়ে গেলেন ফরাসি মহাতারকা। কাতারে ৮টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্টের পর, চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ৮টি গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট করে নিজের পরিসংখ্যানকে আরও একধাপ উন্নত করেছেন তিনি।
তবে মরক্কোর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ২-০ গোলের দাপুটে জয়ের এই রাতটি কেবল একটি সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল এমবাপের একের পর এক রেকর্ড ভাঙার রাত। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি ফস্কালেও, দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত এক গোল করে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের ১৭তম ‘নন-পেনাল্টি’ গোলটি পেয়ে যান এমবাপে। আর এর মাধ্যমেই তিনি ছুঁয়ে ফেলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে।
রেকর্ড ভাঙার এই অবিশ্বাস্য দৌড় অবশ্য শুরু হয়েছিল টুর্নামেন্টের একেবারে উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই। সেনেগালের বিরুদ্ধে গোল করে কিংবদন্তি অলিভিয়ের জিরুর ৫৭ গোলের রেকর্ড টপকে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৬৪ গোল) হয়ে যান এমবাপে। একইসঙ্গে জাস্ট ফঁতের ১৩ গোলের বহু পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন তিনি। টুর্নামেন্টে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ২০, যা সর্বকালের তালিকায় মেসির (২১) চেয়ে মাত্র এক ধাপ পেছনে।
এখানেই শেষ নয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের একচ্ছত্র রাজাও এখন এই ২৭ বছর বয়সী সুপারস্টার। নকআউটে তাঁর মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২, যা ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি রোনাল্ডো এবং লিওনিদাসকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। এর পাশাপাশি, হুগো লরিসের সঙ্গে যুগ্মভাবে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২০টি ম্যাচ খেলার নজিরও গড়েছেন তিনি। আগামী সপ্তাহে সেমিফাইনালে মাঠে নামলেই লরিসকে টপকে এই রেকর্ডটি নিজের একার দখলে করে নেবেন এই ফরাসি ফুটবলার। সব মিলিয়ে এমবাপে প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু রেকর্ড ভাঙছেন না, প্রতি ম্যাচেই নতুন করে ফুটবলের ইতিহাস লিখছেন।





