গুয়াহাটি: অসমের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। (AIUDF)অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে দেখা করে তিন দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। এতে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) প্রত্যাহার, অবৈধ ‘পুশব্যাক’ বন্ধ এবং উচ্ছেদ হওয়া মানুষের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
এই সাক্ষাৎকারের পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “আজ আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। প্রথমত, ইউসিসি প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছি। অসম বিধানসভায় পাস হওয়া ইউসিসি আসলে সত্যিকারের ইউসিসি নয়। এটি পুরো অসমিয়া জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে না। ভারতীয় সংবিধান অনুসারে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধীনে কিছু প্রথা ও ঐতিহ্য পালনের অনুমতি রয়েছে।
আরও দেখুনঃ সেভেন সিস্টার স্বাধীন হওয়া উচিত, আমরা করবই! প্রকাশ্যে হুমকি জামাত নেতার
তাই এই আইন প্রত্যাহার করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, এই আইন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে।দ্বিতীয় দাবিতে রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “অবৈধ পুশব্যাকের বিষয়টি আমরা তুলে ধরেছি। বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোয় আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যারা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক, যাদের কাছে একশো বছরের পুরোনো নথিপত্র রয়েছে, তাদের বিদেশি বলে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিরোধিতা করছি।
আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধ পুশব্যাক বন্ধ করতে।” এই ইস্যুতে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, এতে অনেক নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।তৃতীয় দাবিতে উচ্ছেদ হওয়া মানুষের পুনর্বাসনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, “যাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং যারা এখন রাস্তায় বাস করছেন, তাদের পুনর্বাসন ও পুনর্বাসনের দিকে নজর দিন। পুনর্বাসন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো ঘর ভাঙবেন না বা উচ্ছেদ করবেন না।”
আরও দেখুনঃ বিরাট নাশকতার ছক! অসমে অভিযান চালিয়ে পুলিশের জালে ২ উলফা
তিনি জানান, এই তিন দফা দাবি মুখ্যমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা সব দাবি খতিয়ে দেখব। রাজ্যের স্বার্থে যা ভালো, তা করা হবে।” তবে এই দাবিগুলো নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, ইউসিসি রাজ্যের সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। এতে কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য নেই। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, এই দাবিগুলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দেখুনঃ কংগ্রেস বিধায়কের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগ বাংলাদেশি মৌলানার! অসমে ঘনাচ্ছে রহস্য





