আস্থা অটুট, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা’, অভিযুক্তের এনকাউন্টারে স্বস্তি নির্যাতিতার পরিবারে

বারুইপুর: নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী…

বারুইপুর: নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর৷ মঙ্গলবার এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যুতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার পরিবার। তবে, পুলিশের এই ‘এনকাউন্টার’ সংস্কৃতি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী শিবিরের একাংশ এবং তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ( baruipur victim father happy in encounter)

নির্যাতিতার পরিবারের প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, “বাবা-মা যেভাবে চাইবে, সেভাবেই ন্যায়বিচার দেব, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে।” বুধবার অভিযুক্তের মৃত্যুর পর নির্যাতিতার বাবা বলেন, “সরকারের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন। পুলিশের সক্রিয়তা ছাড়া আমরা এই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতাম না। আশা করি বাকি অভিযুক্তরাও দ্রুত গ্রেফতার হবে এবং কঠোর শাস্তি পাবে।” পরিবারটি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘আমারা মুখ্যমন্ত্রীকে দাদা বলে সম্বোধন করি। ওঁর উপর বিশ্বাস আছে। দাদা কঠোর সাজা দিয়েছেন। দাদা বলেছিলেন, আমার কাজ দেখে যাও। আর সত্যিই দাদার উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা খুব খুশি।’

রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ‘এনকাউন্টার’

বারুইপুরের এই ঘটনাকে অনেকে উত্তরপ্রদেশের ‘যোগী মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “পুলিশ খুব ভালো কাজ করেছে। শাসকের আইনের বদলে এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।”

তবে, এই ঘটনা নিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র কটাক্ষ করে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, রাজ্যে কী চলছে? বাঙালিরা দয়া করে নতুন বাংলাকে স্বাগত জানান, উত্তরপ্রদেশ ২.০! বিজেপি সরকারে নেই, কিন্তু এটা জঙ্গলরাজ।” পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এমন প্রকাশ্য সমালোচনা দলের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অভিযুক্তের মায়ের কঠোর অবস্থান

এদিকে, এনকাউন্টারে নিহত অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মা ছেলের মৃতদেহ নিতেও অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ওর দেহ দেখতে চাই না। ও যা করেছে, তাতে ওর মৃত্যুতেই আমি শান্তি পেয়েছি।” অপরাধী সন্তানের প্রতি মায়ের এই কঠোর অবস্থানও সমাজে নতুন করে নৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে অভিযুক্ত পুলিশকে আক্রমণ করে পালানোর চেষ্টা করলে পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর বারুইপুর এলাকা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়েছে পুলিশ। দ্রুত বাকি অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে এখনও সরব এলাকাবাসী।