বারুইপুরে (baruipur case reaction) নাবালিকা খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর এ বার মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী চাঁপা মণ্ডল। বুধবার সকালে স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “ও অন্যায় করেছে, দোষ করেছে, গুলি খেয়েছে। এতে তো বলার কিছু নেই।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগে প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডলও বলেছিলেন, ছেলে নিজের অপকর্মের ফল ভোগ করেছে এবং এ নিয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই।
আরও পড়ুন: টোটো চালকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে শিলিগুড়ি হেড পোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান সিটুর
স্বামীর মৃত্যুর (baruipur case reaction) ঘটনায় আবেগপ্রবণ না হয়ে চাঁপা মণ্ডল নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর কাছ থেকে নানা ধরনের অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে তিনি এক সন্তানের মা। সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসার সুযোগ বা সামর্থ্য না থাকায় সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতে হয়েছে বলেই জানান তিনি। তাঁর কথায়, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এতদিন সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছিলেন।
আরও পড়ুন:এনকাউন্টার! ‘পুলিশ ভাল কাজ করেছে’, মন্তব্য রত্না দেবনাথের
চাঁপা মণ্ডলের অভিযোগ, প্রভাস মণ্ডল কোনও নিয়মিত কাজ করতেন না এবং বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। নাবালিকা খুনের ঘটনায় স্বামীর নাম সামনে আসার পর থেকেই তাঁর মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি বলতেও পারব না যে ও এই কাজ করেনি। বিয়ের পরে আমি ওর নোংরামো দেখেছি। অনেক অত্যাচার সহ্য করে আমি এই সংসার করছি। আমি মেনেই নিচ্ছি ও এই ঘটনা ঘটিয়েছে।” তবে এই বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত দাবি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। মামলার চূড়ান্ত সত্যতা ও দায় নির্ধারণ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া এবং তদন্তের ওপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: বোলপুরে কেষ্টর পার্টি অফিসে তালা ঝোলাল বিজেপি, কিন্তু কেন?
চাঁপা মণ্ডলের এই মন্তব্যের আগে প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডলও ছেলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে, তবে তার শাস্তি পাওয়াই স্বাভাবিক। পরিবারের দুই সদস্যের এই বক্তব্য জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, অভিযুক্তের পরিবারের এমন প্রতিক্রিয়া বিরল হলেও তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই এই মন্তব্য করেছেন।
বারুইপুরের নাবালিকা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নজর রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের। একই সঙ্গে এই ঘটনায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, পারিবারিক সহিংসতা এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।





