আরজি কর (RG KAR) মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার তদন্তে নতুন করে প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ নেওয়ায় ঘটনাটি আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে সাসপেন্ড হওয়া তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:‘তৃণমূল তৃণমূলকে ডিম ছুড়েছে আমরা কি করব!’ বিস্ফোরক শমীক
সাসপেন্ড হওয়া ওই তিন আইপিএস হলেন তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্তা। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে।
আরও পড়ুন:NeVAর আওতায় ৩৩ তম কাগজহীন বিধানসভা হিসেবে যোগ দিতে চলেছে বঙ্গের বিধানসভা
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে নাইট ডিউটিতে থাকা অবস্থায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হলে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে।
আরও পড়ুন:‘মরা মাছের মত চোখওয়ালা মূর্তিমান শয়তান!’ জ্যোতি বসু নিয়ে বিস্ফোরক তথাগত
তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে সিবিআই একাধিক দিক খতিয়ে দেখলেও নতুন করে আর কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বিচার প্রক্রিয়া শেষে শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে এই রায় ঘোষণার পরও নির্যাতিতার পরিবার সন্তুষ্ট নয়। তাঁদের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে, যাদের ভূমিকা এখনও অজানা রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে তদন্ত আরও বিস্তৃত করার দাবি এবং সন্দেহের ভিত্তিতে নতুন করে প্রশাসনিক ফাইল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে ওই তিন আইপিএস আধিকারিককে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এখন সেই সাসপেনশনের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন মূলত খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার সময় প্রশাসনিক স্তরে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না। বিশেষ করে তৎকালীন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বা সরকারের কোনও মন্ত্রীর তরফে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে কোনও ফোন, বার্তা বা নির্দেশ গিয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। প্রমাণ মিললে সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ওই দলে তিনজন শীর্ষ তদন্তকারী আধিকারিক রয়েছেন। তাঁরা ঘটনার রাত থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে নির্যাতিতার শেষকৃত্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে পুনরায় পর্যালোচনা করছেন।





