পরমাণু মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালাল চিন, ভারতের কাছে কতটা উদ্বেগের বিষয়?

China Nuclear Missile Test: চিন প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। চিন জানিয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত…

China Nuclear Missile Test: চিন প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। চিন জানিয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং এটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। চিনা নৌবাহিনী জানিয়েছে যে, দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটিতে প্রশিক্ষণের জন্য একটি ডামি ওয়ারহেড যুক্ত ছিল এবং সোমবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। চিন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্রের উন্মুক্ত এলাকায় আগে থেকে নির্ধারিত একটি স্থানে গিয়ে পড়েছে।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপানের মতো দেশগুলো চিনের এই পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। এছাড়া, এই পরীক্ষাটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্র-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনার কথা চিন তাদের সরকারকে জানিয়েছিল; তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পদক্ষেপটি অঞ্চলে ‘অস্থিরতা’ তৈরি করবে।

China Nuclear Missile Test: ভারতের জন্য চিনের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রটি কতটা উদ্বেগের বিষয়?
সিনহুয়া নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় পারমাণবিক-অস্ত্র মুক্ত এলাকায়’ এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে। এর পাল্লা বা আওতা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। যদিও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধের কথা মাথায় রেখেই চিন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে, তবুও এটি ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আঘাত হানার সক্ষমতা থাকার অর্থ হলো, পুরো ভারতই এর আওতাভুক্ত।

চিন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম প্রকাশ করেনি, তবে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী এটি ‘জেএল-৩’ (JL-3) হতে পারে—যা তাদের সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য সবচেয়ে অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (SLBM)।