টোকিও: জাপানের কাওয়াগোয়ে শহরে ( illegal mosque) একটি অবৈধ মসজিদ নির্মাণের ঘটনা সামনে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের কিছু ব্যক্তি স্থানীয় নিয়মকানুন ও অনুমতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মসজিদটি তৈরি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত নিজে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু জাপানি স্থানীয় প্রশাসন এখন পুরো স্থাপনাটিকে অবৈধ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।
জাপানের কঠোর নিয়মকানুনের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে জমি ব্যবহার, নির্মাণ অনুমতি এবং শহর পরিকল্পনা আইন অত্যন্ত কঠোর ভাবে পালন করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকায় মসজিদ নির্মাণের জন্য কোনো বৈধ অনুমতি নেওয়া হয়নি। আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করা হয়নি। হঠাৎ করে একটি বড় স্থাপনা তৈরি করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
আরও দেখুনঃ অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে ঝাঁঝরা কাবুলের হাসপাতালে নাশকতা চালানো পাক বিমানবাহিনীর ক্যাপ্টেন
অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন তদন্তে নামে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়।স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “জাপানে প্রত্যেক নাগরিক ও বাসিন্দাকে আইন মেনে চলতে হয়। কেউ যদি নিয়ম ভঙ্গ করে স্থাপনা তৈরি করে, তাহলে তা ভেঙে দেওয়া হবে। এখানে কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয় নয়, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি।” জাপান সরকারের এই কড়া অবস্থানকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। দেশটিতে অভিবাসন নীতি অত্যন্ত সংযত।
তারা চায়, যারা জাপানে আসবেন তাঁরা দেশের আইন, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থাকে সম্মান করুন।পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের একাংশ অবশ্য দাবি করেছে, তারা ধর্মীয় প্রয়োজনে মসজিদটি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু অনুমতি না নেওয়ার বিষয়টি তাঁরা স্বীকার করেননি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি ঘটনাটিকে আরও আলোচিত করেছে। জাপানি মিডিয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘ম্যাডাম ঘুমাচ্ছেন..’, বিমান ছিনতাইয়ের স্মৃতি টেনে পাকিস্তানকে চরম কটাক্ষ কৌশিকনের
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূত কীভাবে অবৈধ স্থাপনার উদ্বোধন করতে পারেন।জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা খুবই কম। দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে, কিন্তু সবকিছু আইনের আওতায় হতে হয়। গত কয়েক বছরে কয়েকটি এলাকায় অনুরূপ অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরকার এসব ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপান তার সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা ও সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষায় খুবই সতর্ক। হঠাৎ করে বড় ধরনের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন তারা চায় না।
আরও দেখুনঃ ভারতকে অস্ত্র দেবে জাপান! দুই দেশকেই চিঠি দিয়ে সতর্ক করল উদ্বিগ্ন চিন


