ইসলামাবাদ: পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (Asim Tariq) ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিককে আজ ইসলামাবাদের কেন্দ্রস্থলে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা গুলি করে হত্যা করেছে। এই ঘটনা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আসিম তারিকের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের কাবুলের ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে বোমা হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগ রয়েছে।
ওই হামলায় ৪০৮ জন নিহত হয়েছিলেন।আজ সকালে ইসলামাবাদের একটি ব্যস্ত এলাকায় আসিম তারিক গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। এখনও কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবে এই হত্যাকাণ্ডকে অনেকে আফগানিস্তানের হাসপাতাল হামলার সঙ্গে যুক্ত করছেন।
আরও দেখুনঃ ‘সংবাদমাধ্যম চুপ কেন-মোমবাতি মিছিলের কভারেজ হবে তো?’ বারুইপুর কাণ্ডে প্রশ্ন কুনালের
ওমিদ হাসপাতালে হামলার ঘটনাটি আফগানিস্তানে বড় আলোড়ন তুলেছিল। আসিম তারিক ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে অভিযোগ উঠেছিল। হাসপাতালটি মাদকাসক্তি চিকিৎসার জন্য পরিচিত ছিল। হামলায় সাধারণ রোগী, চিকিৎসক ও স্টাফসহ ৪০৮ জন প্রাণ হারান। আফগান কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেছিল। আসিম তারিকের নাম সেই সময় থেকেই আলোচনায় ছিল।
পাকিস্তানের ভিতরে এই হত্যাকাণ্ড দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একজন উচ্চপদস্থ বিমানবাহিনী কর্মকর্তা রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে খুন হওয়া গুরুতর ঘটনা। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছি। হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।” তদন্তে আসিম তারিকের অতীত কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কের জটিলতাকে আবার সামনে এনেছে। আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে অনেকে ধারণা করছেন, এই হত্যাকাণ্ড আফগানিস্তানের প্রতিশোধ হতে পারে। আসিম তারিকের পরিবার এখনও কোনো বিবৃতি দেয়নি।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করছে। একজন বিরোধী নেতা বলেন, “রাজধানীতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা খুন হলেন, এটা নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রমাণ।” সরকার অবশ্য বলছে, তদন্ত চলছে এবং দোষীদের খুঁজে বের করা হবে।


