বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) পর্তুগাল শেষ ষোলোয় উঠলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিতর্ক থামছে না। সেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। এবার তাঁকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করলেন সুইডেনের প্রাক্তন তারকা স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তাঁর দাবি, বর্তমান সময়ে রোনাল্ডোকে ঘিরে আক্রমণভাগ সাজিয়ে বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখা বাস্তবসম্মত নয়। বরং একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও অতীতের সাফল্যকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে পর্তুগাল নিজেদের সম্ভাবনাকেই সীমাবদ্ধ করে ফেলছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে একাধিক তারকা ফুটবলার দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই সাতটি গোল করে গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। কিলিয়ান এমবাপে ধারাবাহিকভাবে গোল করে ফ্রান্সকে জয় এনে দিচ্ছেন। ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি কেন এবং নরওয়ের হয়ে আর্লিং হালান্ডও নিজেদের সেরাটা দিচ্ছেন। এই তালিকায় রোনাল্ডোর নাম থাকলেও তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেকেই।
রোনাল্ডো এ পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে পর্তুগালও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। কিন্তু মাঠে তাঁর উপস্থিতি আগের মতো প্রভাব ফেলছে না বলেই মত অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞের। গোল করলেও ম্যাচের গতিতে প্রভাব বিস্তার, প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি কিংবা দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আগের সেই ধার আর দেখা যাচ্ছে না।
Also Read | আর্জেন্টিনার এই দাপুটে ফুটবলারকে দলে টানার পথে গোয়া
এই প্রসঙ্গেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইব্রাহিমোভিচ। তাঁর মতে, ৪১ বছর বয়সী একজন ফুটবলারের উপর নির্ভর করে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখা অবাস্তব। তিনি বলেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই একজন ফুটবলারের গতি, ক্ষিপ্রতা ও শারীরিক সক্ষমতা কমে যায়। রোনাল্ডোর ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে এবং সেটি মেনে নেওয়াই উচিত।
ইব্রাহিমোভিচ আরও বলেন, পর্তুগালের বেঞ্চে গনসালো রামোসের মতো তরুণ ও কার্যকর স্ট্রাইকার রয়েছেন, যিনি সুযোগ পেলেই গোল করছেন। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রোনাল্ডোর নাম ও অতীতের সাফল্যের কারণে তাঁকে প্রথম একাদশে নিয়মিত খেলানো হচ্ছে। তাঁর মতে, এতে দলের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
Also Read | ঘানাকে পিছনে ফেলে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া, চোটের কবলে এই ফুটবলার
সুইডেনের প্রাক্তন এই তারকা আরও দাবি করেন, একজন অধিনায়কের কাজ শুধু মাঠে উপস্থিত থাকা নয়, দলের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নিজের ভূমিকাও বদলে নেওয়া। কিন্তু রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে সেই মানসিকতা দেখা যাচ্ছে না বলেই তাঁর অভিযোগ। ইব্রাহিমোভিচের ভাষায়, এটি নেতৃত্ব নয়, বরং ব্যক্তিগত অহংবোধের প্রতিফলন। তাঁর মতে, একজন ফুটবলারের ইগোর কারণে পুরো দলকে আটকে রাখা উচিত নয়।
তবে ইব্রাহিমোভিচের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই ফুটবল মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশ মনে করছেন, রোনাল্ডোর অভিজ্ঞতা এখনও পর্তুগালের বড় সম্পদ। অন্যদিকে অনেকের মত, ভবিষ্যতের কথা ভেবে ধীরে ধীরে তরুণদের উপর ভরসা বাড়ানোই উচিত। এখন দেখার, নকআউট পর্বে রোনাল্ডো নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে পারেন কি না।
Also Read | নয়া মরসুমে কোন দলে খেলবেন ব্রাইসন ফার্নান্দেজ?


