‘জুটত শুধু অবহেলা!’ শিলিগুড়ি পুরনিগমে সংবর্ধিত হয়ে আবেগপ্রবণ বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ

শিলিগুড়ি: এক সময় শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ পর্যন্ত জানানো হতো না। আবার কখনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তাঁকে প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। শুক্রবার ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Shankar Ghosh Recalls Political Neglect After Being Honoured at Siliguri Civic Event

শিলিগুড়ি: এক সময় শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ পর্যন্ত জানানো হতো না। আবার কখনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তাঁকে প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের একটি অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত হয়ে অতীত জীবনের সেই তিক্ত স্মৃতিই আবেগঘনভাবে তুলে ধরলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।

কৃতিদের সংবর্ধনা ও অতীত রোমন্থন

শুক্রবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের উদ্যোগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের কৃতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, রঞ্জন সরকার, বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন-সহ শহরের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিন পুরনিগমের মঞ্চ থেকে কৃতি ছাত্রছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাঁদের হাতে সংবর্ধনাও তুলে দেন বিধায়ক। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকেও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হয়।

   

সংবর্ধনা গ্রহণের পর নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “এক সময় পুরনিগমের অনেক অনুষ্ঠানে আমাকে ডাকা হতো না। রাজনৈতিক জীবনে অনেক যন্ত্রণা, অনেক অবহেলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাই আজ একই পুরনিগমের মঞ্চে সম্মানিত হওয়া নিঃসন্দেহে আমার কাছে এক সম্পূর্ণ আলাদা অনুভূতি।”

সৌজন্য ও সম্মানের বার্তা

অতীতের সেই চরম তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পিছনে ফেলে এখন সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মানের রাজনীতিতেই তিনি বিশ্বাসী বলে এদিন স্পষ্ট করে দেন বিধায়ক। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করতে গেলে একে অপরের প্রতি ন্যূনতম সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেই ইতিবাচক ভাবনা নিয়েই আগামী দিনেও দলমত নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান তিনি।

এক সময় যে মঞ্চে তিনি বারবার উপেক্ষিত হয়েছেন, আজ সেই একই মঞ্চে মর্যাদার সঙ্গে সংবর্ধিত হওয়া শঙ্কর ঘোষের কথায়, এটি শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের এক বিশেষ স্বীকৃতি।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।