২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) মঞ্চে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল কানাডা। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে স্টেডিয়ামের ঘোষক বলেছিলেন, “ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে।” যদিও শুরুটা কানাডার পক্ষে সুখকর হয়নি, শেষ পর্যন্ত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে সহ-আয়োজক দেশটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় বসনিয়া। জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে নেমে জোভো লুকিচ দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে লিড এনে দেন। সেই গোলের পর স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার বসনিয়ান সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়েন। বিশেষ করে দক্ষিণ গ্যালারিতে বসনিয়ার সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে কানাডা সহজে হার মানার দল নয়। প্রথম থেকেই তারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল এবং একাধিক সুযোগও তৈরি করেছিল। ম্যাচের ১৭ মিনিটে দলের অন্যতম ভরসা জোনাথন ডেভিড একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। গোলের সামনে প্রায় একা হয়েও তিনি বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। সেই মুহূর্তে সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে কোচ জেসি মার্শের হতাশা স্পষ্ট ধরা পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। কোচ মার্শ ম্যাচের ৭৬ মিনিটে সাইল লারিনকে মাঠে নামান। আর বদলি হিসেবে নামার মাত্র ১২১ সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। বক্সের মধ্যে সুযোগ পেয়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন লারিন। এটি ছিল তাঁর ম্যাচে প্রথম স্পর্শ, আর সেই স্পর্শই কানাডাকে ফিরিয়ে আনে খেলায়।
লারিনের গোলের পর গোটা স্টেডিয়াম উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। দর্শকাসনে উপস্থিত জনপ্রিয় অভিনেতা ও ওয়েলস ক্লাব রেক্সহ্যামের সহ-মালিক রায়ান রেনল্ডসও সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। এছাড়া আইস হকি তারকা কনর ম্যাকডেভিডসহ একাধিক তারকাও উপস্থিত ছিলেন এই ঐতিহাসিক ম্যাচে।
ম্যাচের পরে কোচ জেসি মার্শ জানান, লারিনকে মাঠে নামানোর আগে তিনি শুধু বলেছিলেন, “বক্সের মধ্যে নিজেকে সঠিক জায়গায় রাখো, সুযোগ তৈরি করো এবং গোল করো।” লারিন সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।
ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামে ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন। বিখ্যাত গায়ক মাইকেল বুবলে দর্শকদের সামনে গান পরিবেশন করেন। এরপর কানাডার জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে শোনান জনপ্রিয় শিল্পী অ্যালানিস মরিসেট। আকাশে কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের ‘স্নোবার্ডস’-এর প্রদর্শনী অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
শেষ পর্যন্ত জয় না এলেও এই ড্র কানাডার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে তারা সব ম্যাচ হেরে বিদায় নিয়েছিল। এবার নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই অন্তত হার এড়াতে সক্ষম হয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জন করে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল কানাডা।

















