চিঠি প্রকাশ্যে, স্পিকারের টেবিলে ১৯ জনের সই! তৃণমূলের ‘রহস্যময়’ ২০ নম্বর সাংসদ কে?

নয়াদিল্লি: বিধানসভার পর এবার খাস লোকসভাতেই নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক কেরিয়ারের সম্ভবত সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us

নয়াদিল্লি: বিধানসভার পর এবার খাস লোকসভাতেই নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক কেরিয়ারের সম্ভবত সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে আলাদা সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি এবং ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দলের প্রতীকের দাবি জানিয়েছেন ১৯ জন বিদ্রোহী ঘাসফুল সাংসদ।

জানা গেছে, গত ১৮ মে স্পিকারের দফতরে জমা পড়া ওই চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব (দীপক অধিকারী), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক-সহ ১৯ জন সাংসদের সই রয়েছে। মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে এত বড় অংশ বেরিয়ে যাওয়ায় মমতা-অভিষেকের মূল শিবিরে এখন পড়ে রইলেন মাত্র ৯ জন সাংসদ। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং শত্রুঘ্ন সিনহা।

   

কী চাইছে বিদ্রোহী শিবির?

সূত্রের খবর, গত ১৯ মে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলের চিফ হুইপ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ঘটনাচক্রে স্পিকারের কাছে বিদ্রোহীদের চিঠিটি দেওয়া হয়েছে ঠিক তার আগের দিন (১৮ মে)। বিদ্রোহী গোষ্ঠী স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এখনই বিজেপি বা এনডিএ-তে (NDA) যোগ দিচ্ছে না। আপাতত বাংলার স্বার্থে সংসদে স্বাধীনভাবে কাজ করবেন তাঁরা।

সামনে দীর্ঘ আইনি লড়াই

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের জেরে জোড়াফুল শিবিরের আইনি লড়াই এবার অবধারিত। দলের প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারেন বিদ্রোহীরা। সেখান থেকে জল গড়াতে পারে দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। প্রযুক্তিগত ও আইনি দিক খতিয়ে দেখে স্পিকার এই ১৯ জনের গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।

বিদ্রোহী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঔদ্ধত্যের’ বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রকাশ্যেই বিদ্রোহের সুর চড়িয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুব্ধ কল্যাণের কড়া আল্টিমেটাম, “মমতাদিকে বেছে নিতে হবে, আমি না অভিষেক!”

পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডে হাইকোর্টে অভিষেকের হয়ে আর সওয়াল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। রক্ষাকবচ চেয়ে দায়ের করা ওই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, “ওর জন্যই দলটা শেষ হয়ে গেল, অথচ এখনও ঔদ্ধত্য গেল না।” তৃণমূলের এই চরম ডামাডোলের আবহে এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে একটাই জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে, তবে কি এবার অন্যান্য বিক্ষুব্ধ নেতাদের মতো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন?

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।