গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুরসভার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার স্বপন সমাদ্দার (swapan samaddar) । ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি এবং একাধিক ফৌজদারি মামলার ভিত্তিতে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত, হেনস্থা, শ্লীলতাহানি, ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে এক মহিলা নারকেলডাঙা থানায় স্বপন সমাদ্দারের (swapan samaddarবিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরবর্তীতে ২০২২ সালের একটি পৃথক মামলায় বুধবার ফুলবাগান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক অভিযোগ এবং পূর্বের মামলার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্বপন সমাদ্দারের নাম ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার একাধিক ঘটনায় আগে থেকেই উঠে এসেছিল। বিশেষ করে বেলেঘাটায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের ঘটনায় তাঁর নাম অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে সামনে আসে। ওই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল রাজ্যজুড়ে। ২০২১ সালের ২ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার নিজের ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর বাড়ি এবং পোষ্যদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে।
পরবর্তীতে অভিজিৎ সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার যায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে। তদন্ত চলাকালীন একাধিক তথ্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে চার্জশিট দাখিল করে সিবিআই।
সেই চার্জশিটে স্বপন সমাদ্দারের নাম ছাড়াও বেলেঘাটার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা যায়। তদন্তকারীদের দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের সঙ্গে তাঁদের যোগ থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।



















