চুঁচুড়া: একের পর এক মামলার জট৷ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের জেলের গেরো যেন কিছুতেই কাটছে না। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং তোলাবাজির পর, এবার এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে যুক্ত হল শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। গতকাল, শুক্রবার চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হলেও দিনের শেষে আর বাড়ি ফেরা হল না তাঁর, নতুন করে আবারও জেল হেফাজতেই ঠাঁই হল প্রাক্তন বিধায়কের।
অসিত মজুমদারের এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত গত ৩০ মে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার প্রতিবাদে হুগলির চুঁচুড়ায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা, যার নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। সেই সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকে ধাক্কা মারার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ। ঘটনা স্থল থেকে অসিতবাবু-সহ মোট দশ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনায় ধৃতদের মধ্যে সাত জনের জামিন আগেই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অসিত মজুমদার, চুঁচুড়ার ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা এবং তৃণমূল নেতা মির্জা সানোয়ার আলির বিরুদ্ধে নতুন করে তোলাবাজির অভিযোগ ওঠায় তাঁদের জামিন আটকে যায়। গতকাল, শুক্রবার এই তোলাবাজি মামলায় পার্থ সাহা ও মির্জা সানোয়ার আলির জামিন মঞ্জুর করে আদালত। কিন্তু বাকি দু’জন আইনি স্বস্তি পেলেও কপাল পুড়ল অসিতবাবুর। আদালত কক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন এক মামলা যুক্ত হওয়ায় আবারও শ্রীঘরেই যেতে হলো তাঁকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চুঁচুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের একটি শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার পুরনো মামলা নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে। এই নতুন গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে চুঁচুড়া আদালত অসিত মজুমদারকে আগামী ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত থেকে ফের জেলে যাওয়ার পথে কিছুটা আবেগপ্রবণ ও বিপর্যস্ত দেখায় প্রবীণ এই নেতাকে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “কিছু বলার ভাষা নেই। ভগবান আছে, ঠিকই বিচার হবে। বিচার ব্যবস্থা আছে, সব দেখবে।” আগামী ১৯ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। এখন দেখার, আগামী দিনে তিনি এই জেলের গেরো কেটে বেরোতে পারেন, নাকি তাঁর আইনি অস্বস্তি আরও বৃদ্ধি পায়।




















