স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের নেশা এখনও অটুট। তুষারক্ষতের কারণে হাতের একটি আঙুলের অংশ হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও লক্ষ্য থেকে একচুলও সরতে রাজি নন কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল তথা পর্বতারোহী লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল (Laxmikanta Mandal)। পরপর দু’বার বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করা এই অভিযাত্রী এবার এভারেস্ট অভিযানের হ্যাট্রিক গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।
ইংরেজিত পড়ত ক্লিক করুন: Frostbite Injury Can’t Stop Lakshmikanta’s Everest Hat-Trick Dream
সম্প্রতি এভারেস্ট অভিযান শেষে দেশে ফেরেন লক্ষ্মীকান্ত। দীর্ঘ সময় নেপালের কাঠমাণ্ডুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সরাসরি কলকাতায় পৌঁছন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। তিনি লক্ষ্মীকান্তের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন।
বিমানবন্দর থেকে লক্ষ্মীকান্তকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা যায়, তুষারক্ষতের কারণে তাঁর হাতের একটি আঙুলের দু’টি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই কারণে অস্ত্রোপচার করে ওই অংশ বাদ দিতে হতে পারে। তবে এই খবরেও বিশেষ বিচলিত নন লক্ষ্মীকান্ত। তাঁর কথায়, আঙুলের ক্ষতি তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে পারবে না। বরং দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার পাহাড়ের প্রস্তুতিতে ফিরতে চান তিনি।
কলকাতায় পৌঁছে লক্ষ্মীকান্ত জানান, প্রথমে তিনি ব্যারাকপুরে নিজের কর্মস্থলের ব্যারাকে কিছুটা সময় কাটাবেন। এরপর যাবেন পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে নিজের বাড়িতে। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর আবার নতুন করে প্রশিক্ষণ শুরু করবেন। তাঁর একটাই লক্ষ্য—পরপর তিনবার এভারেস্ট জয় করে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করা। সেই সঙ্গে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অ্যাডভেঞ্চার ক্রীড়া সম্মান তেনজিং নোরকে জাতীয় পুরস্কারের দাবিদার হওয়ার স্বপ্নও দেখছেন তিনি।
লক্ষ্মীকান্তের ব্যক্তিগত জীবনও বেশ ব্যতিক্রমী। এখনও তিনি অবিবাহিত। পরিবারের সদস্যরা এতদিন তাঁর বিপজ্জনক পর্বতারোহণের নেশা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন না। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর অভিযানের খবর পৌঁছয় বাড়িতে। ছেলের সাফল্যে গর্বিত হলেও স্বাভাবিকভাবেই তাঁর বাবা-মা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁরা চান লক্ষ্মীকান্ত এবার সংসার জীবনের কথা ভাবুন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের সংখ্যা কমান।
কিন্তু লক্ষ্মীকান্তের ভাবনা অন্যরকম। তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এভারেস্ট জয়ের হ্যাট্রিক। সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও বিষয়ে মনোযোগ দিতে চান না তিনি। শারীরিক কষ্ট, চিকিৎসা কিংবা আঙুল হারানোর আশঙ্কা—কোনও কিছুই তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে দুর্বল করতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই নতুন উদ্যমে আরও একবার বিশ্বের ছাদে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিতে চাইছেন এই বাঙালি পর্বতারোহী। তাঁর অদম্য জেদ এবং সাহস ইতিমধ্যেই বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।


















